Connect with us

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ কাতার

ফিটনেস? ক্লান্তি? নাকি পরিকল্পনার অভাবঃ ভারত বনাম ওমান ম্যাচ বিশ্লেষণ

ইগর নিজেই বলেছিলেন তিনি তার পূর্বসুরির খেলার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চান।

প্রকাশিত

তারিখ

ফিটনেস? ক্লান্তি? নাকি পরিকল্পনার অভাবঃ ভারত বনাম ওমান ম্যাচ বিশ্লেষণ
ওমানের সাথে ম্যাচে ভারতের ফরমেশন ছিল ৪-২-৩-১। ছবিঃ টাইম

নিজেদের মাঠে ওমানের কাছে হেরেই ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করল ভারত। ২৪ মিনিটে ব্রেন্ডন ফার্নান্দেসের ফ্রিকিকে সুনীল ছেত্রীর দূর্দান্ত গোলে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারত।

৮২ মিনিট পর্যন্ত লীড ধরে রেখেও আলাউয়ি আল মান্ধারের জোড়া গোলে জয়বঞ্চিত হয় ভারত। ১০ তারিখ কাতারের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভারত নিশ্চয়ই চাইবে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে জয় তুলে নিতে।

এ ম্যাচে যদি দুই দলের খেলার দিকে নজর দেই কিছু ট্যাক্টিকাল সিদ্ধান্ত অবশ্যই নজর এড়াবে না।

প্রথমেই আসবে ভারতের এখনো স্থিতিশীল একাদশ না পাওয়া। প্রতিটি নতুন কোচেরই একটি দলের দায়িত্ব নেয়ার পর কিছুটা সময় লাগে দলকে গুছিয়ে নিতে, পছন্দের ফুটবলার নিয়ে নিজের পরিকল্পনা ঠিক করতে।

ইগর স্টিমাক ও তার ভারতীয় ফুটবলারদের শক্তি ও দূর্বলতা জানতে বিভিন্ন ফুটবলার বিভিন্ন পজিশনে খেলিয়ে কাজ করেছেন।

ওমান-ভারত ম্যাচের আগের প্রেস কনফারেন্সেও তিনি বলেছিলেন, তিনি এবং তার ফুটবলাররা স্বচ্ছ ধারণা রাখেন তাদের প্রথম একাদশ কি হবে। বাস্তবতা কিন্তু তা বলে না। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অবাক সাহালের নাম প্রথম একাদশে না থাকায়(সাহাল আব্দুস সামাদ)।

তবে শেষ দশ মিনিট বাদ দিলে পুরোটা সময় যেভাবে খেলেছে তাতে খুব বেশি অভিযোগ করার সুযোগ থাকে না।

ওমানের সাথে ম্যাচে ভারতের ফরমেশন ছিল ৪-২-৩-১। ওমানও একই ফরমেশন নিয়ে নেমেছিল এ ম্যাচে।

গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সম্পর্কে যদি বলতে হয় এক কথায় অসাধারণ। ৫ গজের মধ্যে দূর্দান্ত হেডটি এক হাতে সেভ করার রিফ্লেক্স ছিল দূর্দান্ত। পজিশনিং সেন্স, রিফ্লেক্স সব কিছুতেই পারফেক্ট তিনি।

প্রথম গোলটায় গোলমুখ ছোট করতে বের হয়ে আসায় তার চেয়ে বেশি দোষ দেয়া যায় রাইটব্যাক রাহুলের। এ একটি বাদে পুরো ম্যাচটি দূর্দান্ত খেলেছেন তিনি।

দুটো গোলেই রাইটব্যাক রাহুলের দোষ দেয়া যায়। প্রথম গোলে রাহুলের গতির সমন্বয়ের অভাব আর সেকেন্ডের সিদ্ধান্তহীনতাই মান্ধারকে গতিতে পরাস্ত করে গোল করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় গোলটাতেও মান্ধারকে চ্যালেঞ্জ করে বসেছেন সময়ের আগেই, মান্ধার তাকে বোকা বানিয়ে ইনসাইড আউট করে এক দূর্দান্ত গোল করেন।

লেফটব্যাক আদিল খানের দুই সেন্টারব্যাকের সাথে বোঝাপড়ার অভাব ছিল। সেন্টারব্যাক সন্দেশ এর হলুদ কার্ড ছিল অহেতুক চ্যালেঞ্জ এর ফল। শুভাশিসের রিয়েকশন খুবই ধীর কয়েক ক্ষেত্রে।

মিডে রওলিন বোর্গেসের পারফরম্যান্স ছিল দূর্দান্ত প্রথমার্ধে। ফার্নান্দেজ ৬০ মিনিটের সময় বদলি হন চাংতের গতিকে কাজে লাগানোর জন্য। অনিরুদ্ধ থাপার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক, বলতে গেলে এক প্রকার আত্মঘাতী গোল করেই ফেলেছিলেন।

ভারতের ফ্রন্টলাইনের প্লেয়ারদের প্রশংসা করতেই হয়। উদান্ত সিং ও আশিক কুরুনিয়ান এবং সুনীল ছেত্রী, এ আক্রমণত্রয়ী পুরোটা সময় ছিলেন অসাধারণ। সুনীল বাদে উদান্ত সিংয়ের দিকে নজর রাখতেই হবে বাকি দলগুলোর।

দ্বিতীয়ত, পরিকল্পনা অনুযায়ী সুযোগগুলোকে হেলায় হারানো। ভারতের সেটপিসগুলোকে দেখলে খুব সহজেই বোঝা যাবে এগুলো অনেকদিন ধরে অনুশীলনের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা।

তাই এদিকে বিপক্ষ দলগুলোর নজর আরো বাড়বে। এরকম একটি সেটপিস থেকেই ২৪ মিনিটে অসাধারণ একটি গোল করেন সুনীল ছেত্রী।

শুরুতেই ভারতের পরিকল্পনা ছিল তাদের ডিফেন্সিভ লাইনকে পিচের উপরে তুলে দেয়া বা মধ্যমাঠের কাছাকাছি নিয়ে আসা যাতে ওমানের ফুটবলাররা পাসিং ফুটবলে ডিফেন্সিভ লাইন ভাঙতে না পারে।

এবার পরিকল্পনা বদলে ওমান দুই উইং ব্যবহার করে আক্রমণ করতে চেষ্টা করে। উল্টো নিজেদের ট্যাক্টিক্স নিজেদের দিকে ব্যাকফায়ার করে কারণ নিজেদের ট্যাক্টিক্সে নিজেরাই বিপক্ষ প্লেয়ারদের দুই উইংয়ে প্লেয়ার ওভারলোড করার সুযোগ দিয়ে দেন।

প্রথমার্ধে যে পরিমাণ সুযোগ এসেছিল এবং উদান্ত ও আদিল খান যদি সুযোগগুলো কাজে লাগাতেন তাহলে ফলাফলটা অন্যরকমও হত।

তৃতীয়ত, স্টিফেন কন্সট্যান্টাইনের লিগ্যাসি বহন করা। স্টিফেন কন্সট্যান্টাইনের সময় ভারত আলট্রা ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলার জন্য বেশ সমালোচিত ছিল। দল এক গোলের লীড পেলেই একদম খোলসে বন্দী হয়ে যেত।

ইগর নিজেই বলেছিলেন তিনি তার পূর্বসুরির খেলার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চান।

তার জন্য তিনি দলের ফলাফলে কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। কিংস কাপ এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে ভারতের বল পজেশন এবং পুরো মাঠ ব্যবহার করে পাসিং ফুটবল খেলার একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। যদিও ফলাফল ছিল আগের মতই।

স্টিমাকের ভাষ্যমতে কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে রেজাল্টটাই মুখ্য। কিন্তু বাস্তবে তিনি যা করেছেন তা শুধু তার পূর্বসুরী স্টিফেনের ছায়াই। এক গোলে লীড নেয়ার পর আরো বলের দখল না বাড়িয়ে, গোলের চেষ্টা না করে পুরো দল খোলসে ঢুকে গিয়েছে।

ওমানও এ সুযোগে বল পজেশনে দখল নিয়েছে, গোলমুখে আউটসাইড দ্যা বক্স শট করার চেষ্টা করেছে। দুই ক্লান্ত ফুলব্যাকদের ওপর ঝড় তুলে কাউন্টার এটাকে গিয়েছে।

চতুর্থত, ক্লান্তি। স্টিফেন কন্সট্যান্টাইনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত ভারত যে খেলার ধরণে মানিয়ে নিয়েছে, তাতে মিডের প্লেয়ারদের ডিফেন্সে সাহায্য করার পাশাপাশি কাউন্টার এটাকের জন্য যায়গা খোজার কাজটিও করতে হয়।

যার ফলে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে বেশি ভোগায় সেটি হল ক্লান্তি।

এভাবে ক্রমাগত প্রেসিং এবং এটাকে যাওয়ায় শরীর ক্রমাগত শিথিল হয়ে আসে। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচেও বোর্গেস এবং থাপার ক্ষেত্রেও একই জিনিষ ঘটেছে।

এক ঘন্টা পরই ক্লান্তি পেয়ে বসেছে দলের মিডে। যত সময় গিয়েছে পুরো দলটিকেই ক্লান্তিতে পেয়ে বসেছে।

এর পুরো ফায়দাটি তুলেছে ওমান। ফাইনাল থার্ডে মিস এবং চান্সগুলো গোলে পরিণত হলে আরো আগেই সমতায় চলে আসত খেলা।

ফিটনেস ইস্যু তাই বড় একটি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এখানে। ই গ্রুপের প্রতিটি দল এমনকি বাংলাদেশের ফুলব্যাক এবং উইঙ্গারদের ফিটনেস এবং গতি এখন বিশ্বমানের।

পরের ম্যাচ কাতারের সাথে। এ ম্যাচেও যদি আগের ডিফেন্সিভ জুটিই নামান কোচ তাহলে গুরপ্রীতের ওপর ওমান ম্যাচের মত একাই অনেকবার বাঁচিয়ে দিবেন ভাবলে ভুল হবে। কাতার ওমানের মত বল বিল্ডআপে কোন সুযোগই দিবে না।

ইগর স্টিমাক অবশ্য বলেছেন, কাতারের সাথে নাকি ভারত নতুন ঘরানার ফুটবল খেলবে। যদি সেটা হয় মাঠের আরো ভিতরে ৩০ গজের ভেতর গিয়ে বসে থাকা, তাহলে তো হয়েছেই!!! নিজেদের কার্ডের রাজাই হেটে হেটে অন্য ঘরে উঁকি দেবে গুরুজি!!!

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক