Connect with us

আর্সেনাল

প্রিমিয়ার লীগ রিভিউ ম্যাচডে ৭ঃ শেফিল্ডকে হারিয়ে শীর্ষে লিভারপুল, সমানে পাল্লা সিটির

শেষ মূহুর্তের গোলে এভারটনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। এ ম্যাচেই গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন রহিম স্টার্লিং।

প্রকাশিত

তারিখ

প্রিমিয়ার লীগ রিভিউ ম্যাচডে ৭ঃ শেফিল্ডকে হারিয়ে শীর্ষে লিভারপুল, সমানে পাল্লা সিটির
শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে লিভারপুল। ছবিঃ দি গোল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের সপ্তম রাউন্ড শেষ। এ রাউন্ডে শেফিল্ড ইউনাইটেডকে হারিয়ে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে লিভারপুল। এ নিয়ে এ মৌসুমে ৭ ম্যাচের সবগুলোই জিতে নিল লিভারপুল। তবে বসে নেই গার্দিওলার সিটিও। একের পর এক দূর্দান্ত ম্যাচ খেলে পুলের ওপর শ্বাস ফেলছে সিটি।

যারা চ্যাম্পিয়ন দল তারা নাকি নিজেদের দৃঢ় কঠিন মনোবলের পাশে ভাগ্যকেও পাশে পায়। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল লিভারপুল। নয়ত এমন নিরীহ দর্শন একটা শট হাতকে কাঁচকলা দেখিয়ে দুই পায়ের নিচ দিয়ে চলে যাবে কেনো!!

ম্যাচের তখন ৭০ মিনিট। এর আগে কখনো ব্রামাল লেনে না জেতা লিভারপুল তখনো গোলশূন্য। তখন পর্যন্ত নেয়া সাতটি শটের একটিও গোলপোস্ট বরাবর ছিল না। এমন অদ্ভুত খেলার মাঝেই বাম দিক থেকে করা আক্রমণের পর ক্রস করেছিল লিভারপুল, সেটা ক্লিয়ারও করেছিল শেফিল্ড। কিন্তু বল গিয়ে পড়ে ডিবক্সের বাইরে ওয়াইনাল্ডামের কাছে।

বক্সের ভেতর জটলা থেকে উড়ে আসা বলকে তেমন জোরে ভলি করতে পারেননি লিভারপুলের এ মিডফিল্ডার। সম্ভবত ঠিকমত পা ছোঁয়াতে পারেননি। শটে আদতে না ছিল দিক, না ছিল গতি। বলটা কাছে আসতেই দুহাত দিয়ে তুলে নিতে গেলেন শেফিল্ড গোলকিপার ডিন হেন্ডারসন। কোন জাদুবলে বলটা তিনি হাতে পেলেন না, তার কোনো ব্যাখ্যা হয় না।

বল বুকেও লাগেনি, দুই পায়ের ফাঁক গলে বেরিয়ে গেছে, কোনোমতে গোললাইন পার করেছে। এতেই অনেক দিনের ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে লিভারপুলের। প্রথমবারের মত শেফিল্ড ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ব্রামাল লেনে জিতে বাড়ি ফেরা।

শেষ অ্যাওয়ে ম্যাচে নরউইচ সিটির কাছে হেরে লীগে এমনিই পিছিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। গুডিসন পার্কে এভারটনের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ঠিকই পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা চেপে ধরেছিল সিটিকে। এবার এ যাত্রা বাঁচিয়ে দিলেন স্টার্লিং এবং মাহরেজ।

এ দুজনের শেষ মূহুর্তের গোলে এভারটনকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে সিটি। এ ম্যাচেই গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন রহিম স্টার্লিং।

স্কোরকার্ড দেখে আসলে জয়ী দল এবং ম্যাচের নায়ক যাদের মনে হচ্ছে তারা কেওই আসলে ম্যাচের নায়ক না। আক্ষরিক অর্থে বলতে গেলে এভারটন জয় পেলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। একাই দুদলের মাঝে দেয়াল হয়ে দাড়িয়েছিলেন গোলকিপার এডারসন।

শুধুমাত্র দ্বিতীয়ার্ধেই অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিয়েছেন তিনি। দুইবার এডারসনকে ‘ওয়ান অন ওয়ান’ অবস্থায় পেয়ে গিয়েছিলেন রিচার্লিসন এবং কাল্ভার্ট-লেউইন। দুবারই খালি হাতে ফেরান তিনি। ৭৮ মিনিটে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে এভারটন ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনার হেড ফিরিয়ে দেন তিনি।

২৪ মিনিটে জেসুসের গোলে সিটি এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে সহজ সুযোগ হাতছাড়া করা কালভার্ট-লেউইনই ৩৪ মিনিটে গোল করে সমতায় ফেরান দলকে।

দ্বিতীয়ার্ধে সিটিকে লিড এনে দিয়েছিলেন মাহরেজ। ৭৪ মিনিটে দুর্দান্ত বাঁকানো ফ্রিকিকে সিটিকে ২-১ গোলের লিড এনে দেন। ৮৫ মিনিটে বদলি স্ট্রাইকার সার্জিও আগুয়েরোর শট এভারটন গোলরক্ষক পিকফোর্ড ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে গোল করেন স্টার্লিং।

৭ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকল সিটি, শীর্ষে থাকা লিভারপুলের (২১) সাথে ব্যবধানটা থাকল ৫ পয়েন্টের।

এদিকে সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে টটেনহাম। নিজেদের মাঠে মরিসিও পচেত্তিনোর দল এন’দোম্বেলের গোলে লিড নিলেও সাউদাম্পটনকে সমতায় ফেরান ড্যানি ইঙ্কস। পরে হ্যারি কেইনের গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টটেনহাম।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ব্রাইটনের বিপক্ষে ‘সিগাল’দের ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেলেন চেলসি ম্যানেজার ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। জর্জিনহোর পেনাল্টিতে লিড নেওয়া চেলসির জয় নিশ্চিত করেন উইলিয়ান।
৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার-এ উঠে আসল পচেত্তিনোর দল।

টটেনহামের সমান ১১ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় টেবিলের ছয়-এ উঠে এসেছে চেলসি।

এদিকে প্রিমিয়ার লীগের ৩০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে শুরু করেছে ইউনাইটেড। আর্সেনালের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট টেবিলের দশম স্থানে নেমে গেছে তারা।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক