Connect with us

২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ কাতার

আফগানদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের

বাংলাদেশের সামনের প্রতিপক্ষ বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার। নিশ্চিতভাবেই আরো কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে।

প্রকাশিত

তারিখ

আফগানদের কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের
অ্যাটাকিং থার্ডে বাংলাদেশের স্ট্রাইকার জীবন ছিলেন খুবই সাদামাটা। ছবিঃ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন

মাত্রই আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। ফুটবলে সুযোগ ছিল সে ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার। ক্রিকেটে যেমনই হোক, আফগানিস্তান ফুটবলে বেশ শক্তিশালী দল। এদের বিরুদ্ধে খেলতে হত নিখুঁত ফুটবল।

কিন্তু ২৭ মিনিটে একদম নিখুঁত ভুলের মাসুল গুনেই আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং এশিয়ান কাপ বাছাই শুরু করল বাংলাদেশ। আগামী ১০ অক্টোবর বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচের প্রতিপক্ষ কাতার।

বাংলাদেশের হারের ব্যবধানটা বড় হতে পারত। আবার দুশানবে সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ম্যাচের গল্পটা পুরোপুরি ভিন্নও হতে পারত।

বাংলাদেশের চেয়ে ৩৩ ধাপ এগিয়ে ছিল আফগানরা। র‌্যাঙ্কিংয়ের মতোই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সেও জামাল ভূঁইয়াদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল ফারশাদ নুররা। ইউরোপিয়ান লিগের ২০ খেলোয়াড় সমৃদ্ধ শারীরিক সক্ষমতা, গতি বা বলের নিয়ন্ত্রণে দারুণ আফগানদের বিরুদ্ধে তাই দূর্দান্ত কিছুই করতে হত।

তা আর হল কই!!! ম্যাচের ৬৫ ভাগ বলের দখল ছিল আফগানদের। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট ম্যাচের চেহারা। কোন বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে পারেনি বাংলাদেশ।

আফগানদের ৪-৩-৩ ফরমেশনের বিপরীতে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দল সাজান কোচ জেমি ডে। বাংলাদেশের শুরুর ৫ মিনিট ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী, আশা জাগানিয়া। কিন্তু এর পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আফগানদের পায়ে।

জেমি ডে জানতেন আফগানিস্তানের তিন মিডফিল্ডারই তাদের প্রাণ। আক্রমণের জোগানদাতাও তারা। তাদের ঠেকাতে জামাল ও সোহেল রানাকে নিয়ে দুই হোল্ডিং মিডফিল্ডার হিসেবে খেলিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন জেমি।

কিন্তু দিন দিন নিজের নামের প্রতি ছায়া হয়ে যাওয়া জামাল বা ছন্দ হারিয়ে ফেলা সোহেল রানার সাধ্য ছিল না এ মিডফিল্ড আটকানোর। দুই উইঙ্গার নিচে নেমে রক্ষণে অংশ না নিলে মিডের কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ত বাংলাদেশের।

ম্যাচের ৩ মিনিটেই দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন বিপলু আহমেদ। ডিবক্সের মাথায় পেয়েছিলেন বল, সামনে ছিলেন শুধু আফগান গোলরক্ষক। কিন্তু শট না করে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে হাতে বল লাগিয়ে দারুণ এক সুযোগই নষ্ট করে দিলেন।

এরপর যত সময় গিয়েছে আফগানদের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ গিয়েছে। কখনো মিডফিল্ড থেকে ছোট ছোট পাস, কখনো দুই উইং দিয়ে আক্রমণ করে গিয়েছে আফগানরা। নিজেদের অর্ধেই যেনো খোলসে বন্দী হয়ে যায় নিজেরা।
সব আক্রমণ হয়ত ডিফেন্সে, নয়ত রানা সেভ করে দলকে বাচাচ্ছিলেন।

সবচেয়ে বড় খুঁতটা বের হলো ২৭ মিনিটে। সেটাতেই যা সর্বনাশ হওয়ার হল। ফারশাদ নূরকে দুই ডিফেন্ডার ডিবক্সের ভেতর পাহারায় রেখেও আটকাতে পারেননি, তেমনি গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাও পারেননি ঠিকমত বলকে ফেরাতে।

দুইজন মিলে পাহারায় রেখেছিলেন নূরকে। একজন দাড়িয়ে গেলেন, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলেন শুধু।  ডিফেন্ডারদের চেয়ে উচ্চতায় এগিয়ে থাকার ফায়দা নিয়ে নূর যে হেড করলেন, সেটা দশ বারে নয়বারই ঠেকানোর কথা রানার। বাংলাদেশ গোলরক্ষক ঠেকালেন ঠিকই। কিন্তু এত দুর্বল সেভে বল হাত থেকে ছুটে বারপোস্টে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত জাল খুজে নিল।

গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে জীবন, সাদরা। ব্যক্তিগতভাবে নিজের দক্ষতা ব্যবহার করে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা ছিল, কিন্তু একবারের জন্যও পরীক্ষা নিতে পারেননি কেও। নিজেদের অ্যাটাকিং থার্ডে বাংলাদেশের একমাত্র স্ট্রাইকার জীবন ছিলেন খুবই সাদামাটা।

সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া বল নিজের দখলে না রাখতে পারায় রক্ষণভাগে ওপর উল্টো চাপ পড়ে বেশি। ৫৬ মিনিটে বিপলুর জায়গায় পাঠানো হয়েছিল বাংলাদেশের শেষ দুই ম্যাচের জয়ের নায়ক রবিউলকে।

এক গোলে পিছিয়ে ছিল থাকা বাংলাদেশের সামনে ফেরার সুযোগ ছিল একেবারে শেষ পর্যন্ত। ইনজুরি সময়েই সে সুযোগটি আসে। ইনজুরি সময়ে স্ট্রাইকার জীবন সিক্স ইয়ার্ড বক্সের মাথায় জটলার ভেতর বল পেয়েছিলেন, তার পেছনে ছিলেন আফগান ডিফেন্ডার আব্বাসিন আলখিল।

শট নিতে গিয়ে পেছন থেকে করা আলখিলের ট্যাকেলে জীবন পড়ে গেলে, বাংলাদেশও করেছিল পেনাল্টির আবেদন। কিন্তু রেফারি সেটা এড়িয়েই গেলেন।

শেষ পর্যন্ত দুশানবে থেকে হার নিয়েই ফিরতে হল বাংলাদেশকে। বাংলাদেশের সামনের প্রতিপক্ষ বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতার। নিশ্চিতভাবেই আরো কঠিন ম্যাচ অপেক্ষা করছে নিজেদের জন্য।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক