Connect with us

আন্তর্জাতিক

স্টার্লিং-বালবার্নিতে আয়ারল্যান্ডের শ্বাসরুদ্ধকর জয়

প্রকাশিত

তারিখ

স্টারলিং বালবার্নির ২৫৫ রানের দূর্দান্ত জুটি। ছবিঃ আইসিসি

ইংল্যান্ড আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার সাউদাম্পটনের রোসবোল স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি ছিলো নিয়ম রক্ষার ম্যাচ!

আর তাতেই আইরিশদের রূপকথার জয়! ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেয়া ৩২৮ রানের পাহাড়, এক বল ও সাত উইকেট হাতে রাখতেই ছুঁয়ে গেলো সফরকারী আয়ারল্যান্ড।

টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নি।তবে দারুণভাবে শুরুটাও করেছিলো আয়ারল্যান্ড।

৪৩ রানের মধ্যেই তিন উইকেটের বিদায়ে আইরিশ শিবিরের স্বস্তির নিঃশ্বাসে আঘাত হানে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও টম ব্যান্টন জুটি

পল স্টার্লিং ও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নির ২১৪ রানের পার্টনারশিপে শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচটি জিতে হোয়াটওয়াশ এড়ালো আইরিশরা।

মরগানের ৮৪ বলে ১০৬ রানের ও ব্যান্টনের ৫১ বলে ৫৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের পথের রেখা দেখান এ জুটি।

ইনিংসে ১৫টি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে অধিনায়ক হিসদবে ওয়ানডে ইতিহাসের বেশি সংখ্যাক ছয় মারার রেকর্ডও গড়ে ফেলেন মরগান।

স্কোরবোর্ডে তখন পাঁচ উইকেটে ২০২ রান। মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের বিদায়ের পর ৩২৮ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়ার কাজ করেন নিচের সারির ব্যাটসম্যানরা।

উইলি ও টম কারানের জুটির ঝড়ো ইনিংস ইংলিশদের দলীয় শতক তিন শ পারে ভূমিকা রাখে। ৪২ বলের ৫১ রানের দূর্দান্ত ইনিংস খেলে বালবার্নির তালু বন্দী হন তিনি।

তবে ৩৮ রানে অজেয় থাকেন টম কারান। সাম বিলিংসের ১৯ (১৮), মঈন আলি ১ (৫), রশিদ ৩ (৩), সাকিব মাহমুদের ১২ (১৫) রানের সহায়তায় ৩২৮ রানের পাহাড় গড়তে সমর্থ হয় ইংল্যান্ড।

শেষ অবধি ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই থামাতে হয় ইংলিশদের। আইরিশদের হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিয়েছেন ক্রেইগ ইয়ং। দুটি করে শিকার জসুয়া লিটল ও কার্টিস ক্যামফারের।

আগের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করা স্বাগতিক ইংল্যান্ড এই ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে শেষ পর্যন্ত আইরিশদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে যায়।

ইংল্যান্ডের দেয়া ৩২৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার পল স্টার্লিং ও গ্যারেথ ডেলানি মিলে ৫০ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলেন।

দলীয় ৫০ রানে ডেভিড উইলির গুড লেন্থ স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ডেলানি।

অবশ্য এর পরের গল্পটা শুধুই স্টার্লিং ও বালবার্নির। একপাশে পল স্টার্লিংয়ের ঝড়, অন্যপাশে অধিনায়ক বালবার্নির দায়িত্বশীল ক্ল্যাসিক ব্যাটিং জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।

দুজনেই সেঞ্চুরির দেখা পান। স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরিটি তার ক্যারিয়ারের নবম ওয়ানডে সেঞ্চুরি যা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম!

অবশ্য ৯৫ রান ও ১৩৯ রানে দুইবার জীবন পেয়েছিলেন তিনি।

দলীয় ২৬৪ রানে স্টার্লিং রান আউট হয়ে গেলে তাদের ২১৪ রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যায়।

আউট হবার আগে ৯টি চার আর ৬টি ছক্কায় ১২৮ বলে ১৪২ রানের ম্যাচ জেতানো ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এই সহজাত মারকুটে ব্যাটসম্যান।

এরপর ২৭৯ রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি করা আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নিও। ১১২ বলে ১১৩ রান করে আদিল রশিদের বলে বিলিংসের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপর ম্যাচ জিততে ৩৩ বলে ৫০ রান দরকার পড়ে আইরিশদের। সে কাজটা সেরে আসেন হ্যারি হেক্টর ও অভিজ্ঞ কেভিন ও’ব্রায়েন।

দুজনের ঝড়ো ফিফটি পার্টনারশিপে দুর্দান্ত সমাপ্তি টানে আয়ারল্যান্ড।

সাত উইকেটেই জয় পায় আইরিশরা শেষ সমীকরণটা মিলিয়ে আয়ারল্যান্ড মনে করিয়ে দিলো ব্যাঙ্গালুরে ৮ বছর আগে ইংল্যান্ডের ছুঁড়ে দেয়া সেই ৩২৮ রানের কথা। সেদিনও আইরিশরা সেই রানের পাহাড় টপকে ছিনিয়ে নিয়েছিলো অবিশ্বাস্য জয়।

শেষ ওভারে দরকার পড়ে ৯ রানের। কিন্তু এক বল হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় আয়ারল্যান্ড।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক এউইন মরগানের সেঞ্চুরি, টম ব্যান্টন ও ডেভিড উইলির ফিফটিতে ৩২৮ রানের বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলো ইংলিশরা।

শেষ পর্যন্ত ২-১ সিরিজ শেষ করলো ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড

ফলাফলঃ আয়ারল্যান্ড ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ পল স্টার্লিং (আয়ারল্যান্ড)।
ম্যান অব দ্য সিরিজঃ ডেভিড উইলি (ইংল্যান্ড)।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক