Connect with us

আন্তর্জাতিক

ধোনি- ১৩০ কোটির হৃদস্পন্দন

প্রকাশিত

তারিখ

বাংলাদেশ বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে থাকছেন না ধোনি
মাহেন্দ্র সিং ধোনি সাফল্যের রাজপুত্র।ছবিঃ আইসিসি

মহেন্দ্র সিং ধোনি, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় একজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার।
শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্বজুড়ে তার অসংখ্য ভক্ত অনুসারী রয়েছে।
১৯৮১ সালের ৭ই জুলাই ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন খ্যাতিমান এই ক্রিকেটার।

২০০৪ সালের ২৩শে ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ডানহাতি এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের। অভিষেকে মাত্র এক বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

তার ব্যাক্তিগত ৫ম ওডিআই ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৪৮ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে নিজের জাত চেনান।

এক বছরের মধ্যেই নিজের রেকর্ড ভেঙ্গে অপরাজিত ১৮৩ রানের একটি নান্দনিক ইনিংস খেলেন যা তখনকার সময়ে বিশ্বরেকর্ড ছিলো।
রঙ্গিন পোশাকে সাফল্যের ফুলঝুরি ছুটিয়ে ২০০৫ সালের ২ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ২৫১ তম টেস্ট ক্যাপ পড়ে অভিষেক।

ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্রিকেটের নবাগত সংস্করণ টি-২০ তেও অভিষেক হয় ধোনির।

আগ্রাসী ব্যাটিং, চতুর কিপিং আর নজরকাড়া লম্বা চুলে ক্রিকেট ভক্তদের কাছে আলাদাভাবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি।

ক্যারিয়ারে তার কোনো কিছুর অপূর্ণতা বোধহয় আর বাকি নেই। ভারতের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে জিতিয়েছেন দুটি বিশ্বকাপ।

২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে উত্তেজনায় ভরপুর ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতকে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ মেটান তিনি। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার অধিনায়কত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো সবাই।

তার মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের ক্ষমতা ছিলো। পুরো দলকে ঠান্ডা মাথায় গুছিয়ে প্রতিপক্ষের দুর্বলতা নিয়ে মাঠেই বাজি খেলতেন তিনি।

বেশিরভাগ সময়ই সেই বাকি তার পক্ষে যেতো! নিঃসন্দেহে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা অধিনায়কদের একজন।
তার নেতৃত্বেই ভারত টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর স্থানে উঠে এসেছিলো।
২০১১ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপেও ভারতকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ২৮ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটান তিনি। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৭৯ বলে ৯১ রানের দুর্দান্ত ম্যাচজয়ী  ইনিংস খেলে ভারতকে বিশ্বকাপ জেতান তিনি। ফাইনালে ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হোন ধোনি।
২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তার অধিনায়কত্বে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। তিনিই বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক, যার সব আইসিসি টুর্নামেন্টই জেতা হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে ধোনির সাফল্য অনেক উপরে।
রঙ্গিন পোশাকে ভারতকে ১৯৯টি ওয়ানডেতে নেতৃত্ব দিয়ে ১১০ ওয়ানডে ও ৭২টি টি-২০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১টি ম্যাচ জিতিয়েছেন!

আন্তর্জাতিক ছাড়াও চেন্নাই সুপার কিংসকে নেতৃত্ব দিয়ে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছেন।

ব্যাক্তিগত জীবনে অনেক অর্জন রয়েছে তার। ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আইসিসির বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরষ্কার পান তিনি।

২০১১ সালে ধোনিকে ভারতের সামরিক বাহিনী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদায় ভূষিত করে।

ভারতের হয়ে ৯০ টেস্টের ১৪৪ ইনিংসে ব্যাট করে ৩৮.০৯ এভারেজে ৪৮৭৬ রান করেছেন তিনি। সাথে আছে ৬টি শতক ও ৩৩টি অর্ধশতক।

ওয়ানডে ক্রিকেটে আরো ক্ষুরধার তার ব্যাট। ৩৫০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৯৭ বার ব্যাট হাতে নেমে অবিশ্বাস্য ৫০.৫৭ এভারেজে ১০ হাজার ৭ শত ৭৩ রান করেছেন। ১০টি সেঞ্চুরির সাথে ৭৩ টি হাফসেঞ্চুরির ইনিংস। নট আউট থেকেছেন ৮৪ বার!

গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে দাড়িয়ে নিয়েছেন ৩২১ টি ক্যাচ ও ১২৩ টি স্ট্যাম্পিং করেছেন!

টি-২০তেও উজ্জ্বল ধোনির পরিসংখ্যান। ভারতের হয়ে ৯৮ টি টি-২০ ম্যাচ খেলে ১২৬.১৩ স্ট্রাইকরেট আর ৩৭.৬০ এভারেজে রান তুলেছেন ১৬১৭। অপরাজিত থেকেছেন ৪২ বার!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বমোট ১৪২ বার অপরাজিত থেকেছেন তিনি যা তাকে ফিনিশার হিসেবে প্রমাণ করে।

ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ফিনিশারদের একজন বলা হয় ধোনিকে।

হার্ড হিটার হিসেবে একটি বিশেষ রেকর্ড রয়েছে তার। ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের প্রথম ও ক্রিকেট বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০টি ছক্কা মারার রেকর্ড রয়েছে ধোনির।

২০১৪ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে অবাক করে দেন ধোনি। ২০১৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা টেস্ট ম্যাচটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ ছিলো।

তবে সাদা পোশাকে অবসর নিলেও এতোদিন ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে  তিনি অবসরে যান নি ধোনি। যদিও ২০১৯ বিশ্বকাপে ম্যানচেস্টারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের পর আর বাইশ গজে দেখা যায়নি তাকে। ক্রিকেট মাঠের ক্যাপ্টেন কুল মাঠের বাইরেও নিজের অবসর ইস্যুতে নানান গুঞ্জনে চুপচাপই ছিলেন। শেষ পর্যন্ত অনেকটা  চুপিসারেই থামিয়ে দিলেন নিজেকে।

গত ৭ জুলাই তার ৩৯ তম জন্মদিন ছিলো। বয়সটাও তাই আর পক্ষে কথা বলছেনা। তবে সব ছাপিয়ে কারও অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ধোনিই ভারতের সবচেয়ে সেরা অধিনায়ক। দুটি বিশ্বকাপ আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতানো মহানায়কের প্রস্থানটা ক্রিকেট মাঠে বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমেই হোক সে আশায় বুক বেঁধে ছিল কোটি ভক্ত সমর্থকরা।

শেষ পর্যন্ত সেলুলয়েডের ধোনি এবং বাস্তবের ধোনি দুজনেই বললেন বিদায়। একজন পৃথিবীকে আরেকজন  ২২গজের ডেরা থেকে।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক