Connect with us

আন্তর্জাতিক

তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল উইন্ডিজরা

প্রকাশিত

তারিখ

ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে উইন্ডিজ দলের অসাধারন জয়। ছবিঃ আইসিসি

গ্যাব্রিয়েলের অসাধারন বোলিং আর ব্লাকউডের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সাউদাম্পটন টেস্ট জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১১৭ দিন পর মাঠে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে প্রাণের সঞ্চার ফিরে পেয়েছিলো।

তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাইশ গজে পাঁচ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে সাউদাম্পটন টেস্ট জিতে নিলো ক্যারিবিয়ানরা।

চতুর্থ দিন শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৮৪ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড।

আজ পঞ্চম দিনে দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মার্ক উড ও জফরা আর্চার গ্যাব্রিয়েলের গতির ঝড়ের বিপরীতে দলের লিড খুব বেশী বাড়াতে পারেননি।

দলীয় ৩০৩ রানে গ্যাব্রিয়েলের বলে আউট হোন মার্ক উড। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেন নি আর্চারও। ৩৫ বলে ২৩ রান করে গ্যাব্রিয়েলের বলে ডোওরিচের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

ফলে ৩১৩ রানেই থেমে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ডের ইনিংস। ১৯৯ রানের লিড পায় তারা।

প্রথম ইনিংসে ৬২ রানে ৪ উইকেট পাওয়া গ্যাব্রিয়েল দ্বিতীয় ইনিংসেও ৭৫ রান দিয়ে ক্যারিয়ারে ৫ম বারের মতো ৫ উইকেট তুলে নেন।

জবাবে ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে জফরা আর্চারের গতির কাছে নুইয়ে পড়ে উইন্ডিজ টপ অর্ডার।

ইনিংসের শুরুতেই আঘাত হানেন এই গতি তারকা। দলীয় ৭ রানে অভিজ্ঞ ব্র‍্যাথওয়েটকে বোল্ড আউট করেন তিনি।

এরপর আরেক ওপেনার জন ক্যাম্পবেল রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে গেলে উইকেটে আসেন ব্রুকস।

কিন্তু কোনো রান না করেই আর্চারের বলে এলবিডব্লু হোন তিনি।

এরপর দলীয় ২৭ রানে মার্ক উডের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান শাই হোপও।

মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কিন্তু রোস্টন চেজ ও ব্ল্যাকউডের দৃঢ়তায় শক্তভাবে দাড়িয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গড়ে তুলেন অসাধারণ এক পার্টনারশিপ।

কিন্তু দলীয় ১০০ রানে আবারও ব্রেক-থ্রু এনে দেন ফাস্ট বোলিং সেনসেশন জফরা আর্চার। ভেঙ্গে দেন ৭৩ রানের জুটি।

৩৫.৪ ওভারে ৮৮ বলে ৩৭ রান করা রোস্টন চেজকে বাটলারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তিনি।

উইকেট তবু আঁকড়ে ধরে থাকেন ব্ল্যাকউড। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিতে থাকেন।

শেইন ডোওরিচকে সঙ্গে নিয়ে ৬৮ রানের আরেকটি দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়েন তুলেন তিনি।

কিন্তু চা বিরতির পর ৫২.৫ ওভারে দলীয় ১৬৮ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটে উইন্ডিজদের। ডোওরিচকে কট বিহাইন্ডে সাজঘরে ফেরান ইংলিশ অধিনায়ক বেন স্টোকস।

এরপর অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে নিয়ে দলের জয় এবং নিজের সেঞ্চুরির দারপ্রান্তে থাকা ব্ল্যাকউডের অসাধারণ ম্যাচ জেতানো ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।

৬০.৪ ওভারে অ্যান্ডারসনের বলে স্টোকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সেঞ্চুরি আক্ষেপ নিয়ে ফিরে যান তিনি। ১৫৪ বলে ১২টি বাউন্ডারিতে ৯৫ রান করেন ব্ল্যাকউড।

যদিও দলের তখন প্রয়োজন মাত্র ১১ রান!

বাকি কাজটা অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ও রিটায়ার্ড হার্ট থেকে ফেরা জন ক্যাম্পবেল মিলে শেষ করেন। ১৪ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক হোল্ডার।

র আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে হোল্ডার-গ্যাব্রিয়েলের বোলিং তান্ডবে মাত্র ২০৪ রানে শেষ হয় স্বাগতিকদের ইনিংস।

জবাবে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১৮ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৪ উইকেট নিয়ে ১৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন স্টোকস। একইসাথে ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ৪০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেবার কীর্তি গড়েন তিনি।

ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডকে হারানো ক্যারিবিয়ানদের জন্য নিশ্চয়ই দারুণ তৃপ্তি দিচ্ছে। কী দারুণভাবেই না প্রত্যাবর্তন ঘটলো ক্রিকেটের!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম ইংল্যান্ড টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংসঃ ৬৭.৩ ওভারে ২০৪/১০, (বার্নস ৩০, স্টোকস ৪৩, বাটলার ৩৫, গ্যাব্রিয়েল ৬২/৪, হোল্ডার ৪২/৬)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংসঃ ১০২ ওভারে ৩১৮/১০ (ব্র‍্যাথওয়েট ৬৫, ব্রুকস ৩৯, চেজ ৪৭, ডোওরিচ ৬১, অ্যান্ডারসন ৬২/৩, স্টোকস ৪৯/৪)

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংসঃ ১১১.২ ওভারে ৩১৩ (বার্নস ৪২, সিবলী ৫০, ক্রাওলি ৭৬, স্টোকস ৪৬, গ্যাব্রিয়েল ৭৫/৫, জোসেফ ৪৫/২, চেজ ৭১/২)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংসঃ ৬৪.২ ওভারে ২০০/৬ (চেজ ৩৭, ব্ল্যাকউড ৯৫, ডোওরিচ ২০, হোল্ডার ১৪*, আর্চার ৪৫/৩, স্টোকস ৩৯/২)

ফলাফলঃ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দ্যা ম্যাচঃ শ্যানন গ্যাব্রিয়েল

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক