Connect with us

আন্তর্জাতিক

টাইগারদের ভারত বধ

একদম শেষ মুহূর্তে মুশফিকের দারুণ ফিনিশিং ইতিহাস গড়া এক জয় এনে দিল বাংলাদেশকে।

প্রকাশিত

তারিখ

টাইগারদের ভারত বধ
মুশফিকের দুর্দান্ত ব্যাটিং বাংলাদেশের অভাবনীয় জয়। ছবিঃ আইসিসি

তামিম সাকিব সাইফুদ্দিনকে ছাড়াই ভারত বধ করল টাইগাররা। খর্ব শক্তি ও ভাঙা মনোবল নিয়ে প্রায় অসাধ্য সাধন করল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার হারিয়ে দিল ভারতকে।

শেষের ঝড়ের জন্য সামলে নেওয়াটা ভালই কাজে লেগেছে। একদম শেষ মুহূর্তে মুশফিকের দারুণ ফিনিশিং ইতিহাস গড়া এক জয় এনে দিল বাংলাদেশকে। রোববার রাতের ম্যাচে ৩ বল থাকতে ৭ উইকেটের জয় পায় টাইগাররা।

দিল্লিতে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিং নেয় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর এই সিদ্ধান্তে সুফল পায় সফরকারীরা। ৬ উইকেটে ১৪৮ রানের উপরে তুলতে পারেনি স্বাগতিক দেশ।

প্রথম ওভারে দুটি চার মেরে দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দেন রোহিত শর্মা। তবে শেষ বলে তাকে এলবিডাব্লিউ করেন শফিউল ইসলাম। ভারতীয় অধিনায়ক রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ৫ বলে ৯ রান করেন তিনি। শফিউলের প্রথম ও পঞ্চম বলে চার মারার পরই আউট হন রোহিত।

পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৩৫ রান করে ভারত। পরের ওভারে বল হাতে নেন আমিনুল ইসলাম। এই ডানহাতি স্পিনার তার তৃতীয় বলে লোকেশ রাহুলের উইকেট তুলে নেন। ১৭ বলে ১৫ রান করে শর্ট কভারে মাহমুদউল্লাহর সহজ ক্যাচ হন রাহুল।

আমিনুলের বলে তৃতীয় উইকেটের পতন হয় ভারতের। নিজের দ্বিতীয় শিকার তিনি বানান শ্রেয়াস আইয়ারকে। বাংলাদেশি স্পিনারের আগের ওভারে ছক্কা মারা ভারতীয় ব্যাটসম্যান লম্বা শট খেলেন। কিন্তু লং অফে মোহাম্মদ নাঈম সহজে ক্যাচ ধরেন তার। ১৩ বলে ১ চার ও ২ ছয়ে ২২ রান করেন আইয়ার।

ভারতের টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় প্রতিরোধ গড়েছিলেন শিখর ধাওয়ান। ফিফটি থেকে কয়েকটি রান দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর প্রথম ওভারে তিনি বিদায় নিলেন রান আউট হয়ে। ৪২ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৪১ রান করেন ভারতীয় ওপেনার।

ঋষভ পান্ত দ্বিতীয় উইকেট নেওয়ার ডাক দিলে ধাওয়ান দৌড় দেন। কিন্তু পান্ত মন পাল্টানোয় ভারতীয় ওপেনার আবার ব্যাটিং প্রান্তে ফিরে যাওয়ার আগেই মুশফিকুর রহিম তার স্টাম্প ভেঙে দেন।

দুবের আন্তর্জাতিক অভিষেক ভালো হয়নি। মাত্র ৪ বল খেলে বিদায় নেন তিনি। ১ রান করে আফিফ হোসেনকে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন দুবে। এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন বাংলাদেশি বোলার।

শফিউল তার শেষ ওভারে ঋষভ পান্তকে নাঈমের ক্যাচ বানান। ২৬ বলে ৩ চারে ২৭ রান করেন পান্ত। শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দরের ২ ছয়ে স্কোর একটু বাড়িয়ে নেয় স্বাগতিকরা। শেষ বলে পান্ডিয়া ৬ মারেন। তাতে ১৪৮ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর করে ভারত।

১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং এ নেমে দ্বিতীয় বলেই চার, প্রথম দুই বলে ৬ রান। কিন্তু সে আনন্দ মিইয়ে দিতে দেরি করেননি লিটন দাস। প্রথম ওভারেই শেষ তাঁর চার বলে ৭ রানের ইনিংস। এ ধাক্কা সামলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।

অভিষিক্ত মোহাম্মদ নাঈম ও সৌম্য সরকার প্রথম ৬ ওভারে ৪৫ রান এনে দিয়েছেন। জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় গতিতেই তখনো এগচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু যুজবেন্দ্র চাহাল বোলিংয়ে এসেই বদলে দিলেন সব। ২৮ বলে ২৬ রান করে ফিরলেন নাঈম। ৫৪ রানে দ্বিতীয় উইকেত হারাল বাংলাদেশ।

চাহালের লেগ স্পিন থেকে রানই বের করতে পারছিলেন না মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য। এর মাঝে একটি জোরালো এলবিডব্লুর আবেদন উঠেছিল মুশফিকের বিপক্ষে। আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি, ভারতও রিভিউ নেয়নি। পরে রিপ্লেতে দেখা গেছে, রিভিউ নিলেই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হতো মুশফিককে।

সাবেক অধিনায়কের রান তখন ৬ (৮ বলে), বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৬১। চাহালের প্রথম দুই ওভারে মাত্র ২ রান তুলতে পেরেছে বাংলাদেশ। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৬২ রান। বাকি সময়ে দরকার ৮৭ রান। সেটা ৫ ওভারে নেমে এল ৫০-এ। হাতে তখনো ৮ উইকেট। ৩৪ রানে সৌম্য আছেন এক প্রান্তে, অন্যপ্রান্তে ২৮ রানে মুশফিক। টি-টোয়েন্টিতে এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং দলই এগিয়ে থাকে।

১৬তম ওভারে মাত্র ৬ রান আসায় চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। খলিল আহমেদের প্রথম বলেই হুক করে ছক্কা মারলেন। কিন্তু পরের দুই বলেই আবার ডট। পরের দুই বলে তিন রান এল। ষষ্ঠ বলেই আবার হতাশায় ডুবল বাংলাদেশ। উইকেটের পেছনে বল পাঠাতে গিয়ে গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড সৌম্য। ৩৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংসে দুই ছক্কার সঙ্গে এক চার ছিল তাঁর।

১৮তম ওভারের তৃতীয় বলে আবার জীবন পেলেন মুশফিক। সীমানায় তাঁর সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করে চার বানিয়ে দিয়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। এবারও অভাগা বোলারের নাম চাহাল। ৩৮ রানে আরেকবার জীবন পেলেন মুশফিক। চাহালের সে ওভারে ১৩ রান পেয়েছে বাংলাদেশ।

শেষ ১২ বলে ২২ রান দরকার ছিল বাংলাদেশের। প্রথম দুই দলে মাত্র ২ এল। পরের চার বলে টানা চার ৪ মুশফিকের। শেষ ওভারে দরকার ৪ রান। তবে উইকেটে থাকা মুশফিক-মাহমুদউল্লাহই একবার শেষ ৩ বলে ২ রান তোলার কাজ করতে পারেননি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। এ তথ্যটাই অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল।

প্রথম বলেই ডট দিলেন মাহমুদউল্লাহ। ৫ বলে দরকার ৪ রান।পরের বলে ২ রান নিয়ে চাপ কমালেন অধিনায়ক। পরের বলেই ওয়াইড। ম্যাচ টাই। ৪ বলে ১ রান দরকার বাংলাদেশের। ছয় মেরেই জেতালেন মাহমুদউল্লাহ। ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। আর এভাবেই টি টোয়েন্টিতে প্রথম ভারত বধ্যের গল্প লিখলেন মুসফিক মাহমুদউল্লাহরা।

টি- টোয়েন্টিতে আগের ৮ লড়াইয়ে ভারতকে কখনও হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে জিততে জিততেও ১ রানে হারতে হয়েছিল। নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে দিনেশ কার্তিকের শেষ বলে ছক্কায় স্বপ্নভঙ্গ আজও ক্ষত-বিক্ষত করে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়। ভারতের মাটিতে বেঙ্গালুরুর সেই হতাশা দূর হলো দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক