Connect with us

এডিটরিয়াল

২৯ এ টেস্ট ক্যাপ্টেন মমিনুল

প্রকাশিত

তারিখ

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ২৯তম জন্মদিন। ছবিঃ আইসিসি

বাংলাদেশ দলের বিস্ময় তিনি। যেমন সাদা পোশাকের পারফরম্যান্সে, তেমন রঙ্গিন পোশাকে অবহেলিত থাকায়! শুধুমাত্র একটি ফরম্যাটে খেলা মুমিনুল হক আক্ষেপে পুড়েন কি-না কে জানে!

তবে এক ফরম্যাট খেলেই সে ফরম্যাটের জাতীয় দলের ক্যাপ্টেন তিনি, এতে গর্বিত হওয়ারই কথা।

এই মানুষটাকে দেখে তবু বুঝা দায়, আনন্দটাও বড় করে প্রকাশ করতে দেখা যায়না খুব একটা।

বাংলাদেশের লিটল মাস্টার খ্যাত ছোটখাটো গড়নের ৫ ফুট সাড়ে ৩ ইঞ্চি উচ্চতার এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ২২ গজে কীর্তি গড়েছেন অনেকবার। প্রতিবারই বড়জোর ব্যাট উঁচিয়ে মৃদু হাসিতেই সেরেছেন উদযাপনের রীতি।

তাকে দেখলে মনে হয় কেউ জোর করে হাতে ব্যাট ধরিয়ে খেলতে পাঠিয়েছে। অথচ ২২ গজে দাড়িয়ে বাঘা-বাঘা বোলারদের রীতিমতো হতাশা উপহার দেন প্রায়ই।

ছিলেন বিকেএসপির ছাত্র। এরপর খেলেছেন বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট সহ বাংলাদেশ এ দল, বিপিএল সহ ঘরোয়া সব টুর্নামেন্ট।

প্রতিটি ধাপে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেই সাফল্যের সিড়ি বেয়ে ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে।

২০১২ সালের নভেম্বরে ইনজুরিতে পড়া সাকিব আল হাসানের জায়গায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে ডাক পান তিনি।

৩০ নভেম্বর ওয়ানডে ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুমিনুলের। এরপর ১০ ডিসেম্বর একই দলের বিপক্ষে টি-২০ তেও অভিষেক ঘটে তার।

রঙ্গিন পোশাক দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া মুমিনুল ২০১৩ সালের ৮ই মার্চ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৭ তম টেস্ট ক্যাপ পান।

অভিষেকের পর থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে মুগ্ধ করেন সবাইকে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন তিনি।

তবে একটা সময় বাংলাদেশের সাবেক হেডকোচ হাথুরুসিংহের রেষারেষিতে পড়েন মুমিনুল। পরিসংখ্যান ও পেস বল দুর্বলতা সামনে এনে রঙ্গিন পোশাকের দলে প্রায় ছুড়ে ফেলেন তাকে।

অবশ্য কথায় নয়, ব্যাট হাতে এর উপযুক্ত জবাবও দিয়েছেন মুমিনুল। কুড়িয়েছেন খোদ হাথুরুসিংহের প্রশংসা!

সাদা পোশাকে ৪০ ম্যাচের ৭৬ ইনিংসে ব্যাট করে ১৩ ফিফটি আর ৯ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন ২৮৬০। এভারেজটাও চল্লিশের কোটায় (৪০.৮৫)।

২৮টি ওয়ানডে ম্যাচে ২২.২৮ এভারেজে ৩ ফিফটিতে করেছেন ৫৫৭ রান। ৭৪.৩৬ স্ট্রাইকরেটটাও মন্দ না।

খেলেছেন ৬টি টি-২০ ম্যাচও। তবে সাদামাটা পারফরম্যান্সে ১২০ স্ট্রাইকরেটে মাত্র ৬০ রান করেছেন।

যদিও ৯৯টি স্বীকৃত টি-২০ ম্যাচ খেলে ১১৩.৬৩ স্ট্রাইকরেটে ৯ ফিফটিতে করেছেন ১৬৬৭ রান। আছে সর্বোচ্চ ৯১ রানের ইনিংস।

ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে ১০৬ ম্যাচে ৪১.৪৮ এভারেজে করেছেন ৭ হাজারেরও বেশি রান। হাঁকিয়েছেন ৩১টি ফিফটি ও ২২টি সেঞ্চুরি।

এছাড়া ১৪০ ম্যাচের লিস্ট-এ ক্যারিয়ারটাও বেশ সমৃদ্ধ।

৩১.৬৫ এভারেজে ২৩ ফিফটি আর ৪ সেঞ্চুরির সাহায্যে ৪০৫২ রান করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ ১৮২ রানের অতিমানবীয় ইনিংসও আছে।

সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞায় টেস্টে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হিসেবে মুমিনুলকে মনোনীত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

গেল বছর ভারত সফরে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয় দলের অন্যতম এই ভরসার। এরপর থেকে তার কাঁধেই রয়েছে টেস্ট অধিনায়কত্বের ভার।

করোনা প্রাদুর্ভাবে খেলা বন্ধ হবার আগ পর্যন্ত ৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পেয়েছেন একটিতে, হার তিনটিতে!

এরপরও তার উপর আস্থা রাখছে বোর্ড। দিতে চায় আরো সময়।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে সাকিব ফিরলেও মুমিনুলের কাঁধেই থাকছে নেতৃত্বের ভার এমনটাই ক’দিন আগে জানিয়েছিলেন ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান।

সবশেষে মুমিনুল হক সৌরভ অধিনায়ক হিসেবেও সৌরভ ছড়াবেন ক্রিকেট মাঠে। গৌরব বয়ে আনবেন বাংলাদেশের জন্য। গর্বিত করবেন আমাদের। এটাই চাওয়া।

জীবনের ইনিংসে গতকাল ২৯তম জন্মদিন পূর্ণ করলেন মুমিনুল। ২২ গজের মতো জীবনের ইনিংসেও সেঞ্চুরি হাঁকাবেন এই দোয়া সকলের। শুভ জন্মদিন টেস্ট ক্যাপ্টেন।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক