Connect with us

এডিটরিয়াল

স্বপ্নভঙ্গের এশিয়া কাপঃ আজও স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন !

প্রকাশিত

তারিখ

শুধু ক্রিকেটাররাই নন, সেদিন কান্নায় ভারী হয়েছিল গোটা দেশ। ছবিঃ দ্য ডেইলি স্টার

২০১২ সালের আজকের এই দিনটির কথা কার না মনে আছে! এশিয়া কাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে মাত্র ২ রানের জন্যই যে অধরা কাপটা জেতা হলোনা বাংলাদেশের! স্পষ্ট

ভারত-শ্রীলঙ্কার মতো এশিয়ার দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তকে বেশ প্রতিদান দিয়েছিলেন মাশরাফি-রাজ্জাকরা। যার ফলে শুরু থেকেই চাপে পড়েছিলো পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা।

মাশরাফি, নাজমুল, সাকিব, রাজ্জাকের দারুণ বোলিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩৬ রানেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

ততক্ষনে ফাইনাল জেতার স্বপ্নটা যেনো আরো যৌক্তিক হয়ে উঠলো। ২৩৭ রানের টার্গেট তো আর আহামরি কিছু না।

কিন্তু ম্যাচটা এশিয়া কাপের ফাইনাল বলেই কি-না ‘স্নায়ুচাপ’ই ভোগাল শেষ পর্যন্ত।

তামিম ইকবালের ক্ষুরধার ব্যাটিংয়ে বলগুলো যেভাবে দ্রুত সীমানা ছাড়া হচ্ছিলো, শিরোপা জয়ের স্বপ্নটাও ততো বাস্তব হওয়ার কাছাকাছি আসছিলো।

আরেক ওপেনার নাজিমউদ্দীনকে সেদিন বোতলবন্দী করে রেখেছিলো পাকিস্তানি বোলাররা।

আউট হবার আগে যদিও তামিমের সাথে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছেন, তবু নামের পাশে ৫২ বলে ১৬ রান ছিলো অত্যন্ত দৃষ্টিকটু!

ফাইনালের মতো মঞ্চে একজন ওপেনারের ব্যাট থেকে মাত্র ৩০.৭৭ স্ট্রাইকরেটের ব্যাটিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না।

ম্যাচের শেষদিকে অপচয় হওয়া এই বলগুলোই যেনো আক্ষেপ বাড়িয়েছে বেশ।

তার বিদায়ের পরের ওভারে শূন্য রানে আউট হলেন জহুরুল ইসলাম। ভাঙ্গনের শুরু এভাবেই। ততক্ষণে চোখধাঁধানো দারুণ সব শটে তামিম তুলে নিয়েছেন এশিয়া কাপের টানা চতুর্থ ফিফটি!

একে একে হাতের চারটি আঙ্গুল উঁচিয়ে গুনে সারেন উদ্ভাবনী উদযাপনের কাজ! যেনো তাকে ঘিরে ওঠা সমালোচনার আগুনে পানি ঢালা জবাব!

২৪তম ওভারের প্রথম বলে ৬৮ বলে ৬০ করে তামিম আউট হলে ব্যাটিং বিপর্যয়ের সম্ভাবনা জাগে টাইগার শিবিরে। ৬৮ রানে ১ উইকেট থেকে ৮১ রানেই যে নেই ৩টি উইকেট!

কিন্তু সেদিন দলের ত্রাতা হয়ে উইকেটে এলেন সাকিব আল হাসান। তরুণ নাসির হোসেনকে সাথে নিয়ে গড়লেন ৮৯ রানের পার্টনারশিপ।

যদিও দলীয় ১৭০ রানে আউট হবার আগে ২৮ রান করতে গিয়ে নাসির গিলেছেন ৬৩টি বল! এইসব ভুলগুলোই শেষদিকে চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এর ৯ রান পর ৭২ বলে ৬৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাকিবও। তার বিদায়ের ১১ রান পর মুশফিকও বিদায় নিলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১৯০!

জেতার জন্য যখন ৩০ বলে দরকার ৪৭ রান, মাশরাফির বারুদ-ব্যাটেই যেনো ভাসছিল ট্রফির ছবি। ৯ বলে ১৮ রান করে কমিয়ে এনেছিলেন পার্থক্য।

কিন্তু ভাগ্য পক্ষে ছিলোনা বাংলাদেশের। সাথে ভুল তো ছিলোই। দলীয় ২১৮ রানে মাশরাফি যখন বিদায় নেন, তখন জয়ের স্বপ্নটাও যেনো ফিকে হতে লাগলো!

শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ১৯ রান। ক্রিজে আছেন একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ, সাথে আব্দুর রাজ্জাক। ৪৯ তম ওভারে এলো ১০ রান।

শেষ ওভারে সমীকরণটা আরো সহজ। ৬ বলে ৯… কিন্তু শেষ বলে ব্যাটিংয়ে ১০ নাম্বার ব্যাটসম্যান শাহাদাত। ব্যাটের কানা-টানায় লেগেও চার হবার স্বপ্ন দেখেছিলো বাংলাদেশ, কিন্তু আসলো মাত্র ১ রান।

মাটিতে হাটু গেড়ে বসে পড়লেন মাহমুদউল্লাহ। হয়তো নিজেকে দুষছিলেন- চতুর্থ বলে তিন রান নিয়ে রাজ্জাককে স্ট্রাইকে না দিলে জয়টা হাতছাড়া হতোনা।

মাত্র দুই রানের হার। তীরে এসে তরী ডোবানোর যন্ত্রণা। কত-শত ‘যদি’ ‘কিন্তু’ ‘ইশ’ এর ভাবনা। ইশ! শাহাদাত যদি শেষ ওভারে দুইটা নো-বল সহ ১৯ রান না দিতেন।

নাজিমুদ্দিন যদি ৫২ বলে ১৬ রান না করতেন। নাসির যদি ২৮ রান করতে ৬৩টা বল না গিলতেন। মাহমুদউল্লাহ যদি রাজ্জাককে না দিয়ে দুই রান নিয়ে নিজে স্ট্রাইকে থাকতেন!

কত সুযোগ ছিলো। এতো এতো ভুলের মধ্যে একটা কম হলেই তো হয়ে যেতো! কিন্তু না, ভুলের মাশুলই দিতে হয়েছে অব্দি।

এদিকে আবেগ টাবেগকে জায়গা না দেওয়া শক্ত মানসিকতার সাকিবের চোখে জল। নিজের বুকই ফেটে যাচ্ছে দুঃখে তবু কান্নারত অধিনায়ককে বুকে জড়িয়ে দিচ্ছেন সান্ত্বনা।

ম্যাচ না খেলা তরুণ এনামুল হক বিজয়ও বড়দের সাথে যোগ দিলেন কান্নার মিছিলে। হাতের নখগুলো কামড়াতে কামড়াতে চোখের পানি গাল বেয়ে পড়ছিল।

ঘামে ভেজা নোনা জার্সিতে চোখের নোনাজল মুছছিলেন নাসির হোসেন। বাউন্ডারি লাইনে দু’হাতে ভর দিয়ে মাঠের দিকে চেয়ে কী যেনল ভাবছিলেন মাশরাফি!

শুধু মিরপুর নয়, গোটা দেশই ছিলো শোকে স্তব্ধ। বাংলাদেশ দলের কান্নার মিছিলে যোগ দিয়েছিল দেশের কোটি ক্রিকেট ভক্ত।

ফুটবল মাঠে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা গেলেও ক্রিকেট মাঠে এমন করুন কান্নার দৃশ্য বড্ড অপরিচিত। সেদিন যেনো নতুন করে ক্রিকেট মাঠে কান্নার ইতিহাস রচনা হয়েছিলো মিরপুরে।

আজ ২০২১ সালে এসে দেশের ক্রিকেট অনেক এগিয়েছে ঠিক। বিশ্বের অনেক বাঘা-বাঘা দলকে এই মিরপুরেই নাস্তানাবুদ করেছে বাংলাদেশ।

কিন্তু ২০১২ সালে ২২ মার্চের সেই ক্ষত যে আজও শুকোয়নি! সেই স্বপ্নভঙ্গের পর আজও যে অধরা রইলো সেই স্বপ্নের এশিয়া কাপ!

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক