Connect with us

এডিটরিয়াল

শুভ জন্মদিন কিংবদন্তী

প্রকাশিত

তারিখ

আজ ৩৮ পেরিয়ে ৩৯-এ পা রাখলেন মাশরাফি। ছবিঃ আইসিসি

মাশরাফি বিন মোর্ত্তাজা। ক্রিকেটবিশ্বে এক বিস্ময়ের নাম। বারবার ইনজুরির ছোবলে পড়েও থেমে যায়নি তার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। নানান বাধা-বিপত্তির দেয়াল ভেঙ্গে লড়াকু বেশে ফিরে এসেছেন বারবার। প্রতিবারই সাক্ষর রেখেছেন যোগ্যতার।

তার পুরো জীবনটাই যেন এক অনুপ্রেরণার গল্প।

ছোটবেলার প্রাণচঞ্চল ‘পাগলা’ থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার, বারবার ইনজুরি জয় করা যোদ্ধা, দেশের সফলতম অধিনায়ক ও সর্বশেষ সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিজয়ী সাংসদ।

মাঠ ও মাঠের বাইরে জয় করেছেন অনেক কিছুই।

২০০১ সালের নভেম্বরে মাত্র ১৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে আগমন এক দুরন্ত পেসারের। বৃষ্টিভেজা অভিষেক ম্যাচটি ড্র হলেও তাতে পারফরম্যান্স দিয়ে আলো কেড়েছিলেন তিনি।

জিম্বাবুয়ের খেলা একমাত্র ইনিংসে দেখিয়েছিলেন প্রতিভার ঝলক। নিজের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ৪টি উইকেট।

একই দলের বিপক্ষে ওয়ানডে অভেষেকেও ছিলেন দুর্দান্ত। ম্যাচের ভাগ্যে হার থাকলে ৮.২ ওভারে ২৬ রান খরচায় নিয়েছিলেন দুটি উইকেট।

এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মাশরাফিকে। দিনে দিনে হয়ে ওঠেন পেস আক্রমণে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা।

কিন্তু ইনজুরি থেকে ফিরলেও ‘আনফিট’ আখ্যা দিয়ে ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ হয়নি তার। পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ারেই মাশরাফি এটাকে বড় ট্রাজেডি মনে করেন।

সেই তিনিই একটা সময় পেয়ে যান দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মর্যাদাপূর্ণ স্বপ্নের দায়িত্ব।

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রথম টেস্ট ম্যাচে অধিনায়কত্ব করতে নেমেই ইনজুরিতে পড়ে শেষ হয়ে যায় গোটা ক্যারিয়ারই!

এরপর রঙ্গিন পোশাকে ফিরলেও আর সাদা পোশাকে ফেরা হয়নি এক টেস্টের একটিতে জয় পাওয়া অপরাজিত অধিনায়ক মাশরাফির।

মাত্র ৩৬ টেস্টের ক্যারিয়ার। তার নাম ও ক্যারিয়ারের বয়স অনুযায়ী এটি নিছক একটি ছোট্ট সংখ্যা মাত্র। নিয়েছেন ৭৮ উইকেট। যা এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি পেসারের সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের সংখ্যা!

এতদিন টেস্ট না খেলেও তিনি শীর্ষে। এতবছরেও আর যে কোনো যুতসই টেস্ট বোলারই খোঁজে পায়নি বাংলাদেশ!

রঙ্গিন পোশাকের মাশরাফি দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক। ২২০ ম্যাচে নিয়েছেন ২৭০ উইকেট।

৪.৮৮ ইকোনমি রেট প্রমাণ করে একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে পাওয়ার প্লে ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে নিয়েও প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে কতটা সমীহ আদায় করে নিয়েছেন তিনি।

দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলতে কিংবা জয়ে ভূমিকা রাখতে প্রায়ই ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতেন।

তিন ফিফটিতে টেস্টে ৭৯৭ রান। ওয়ানডেতে ৮৭.৫৬ স্ট্রাইকরেটে যা ১৭৮৭। হাঁকিয়েছেন ৬২টি ছক্কাও!

২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া টি-২০ ফরম্যাটে অবসরের আগ পর্যন্ত ছিলেন অধিনায়ক।

ছুঁড়ে ফেলে দেয়ার হুমকির অভিমানেই হয়তো সবাইকে অবাক করে ২০১৭ সালে টি-২০ থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেন।

৫৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৪২ উইকেট। রান করেছেন ১৩৫.৬১ স্ট্রাইকরেটে ১৭৭।

অধিনায়ক হিসেবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ১১৭ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন।

৮৮ ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন ৫০টিতে! ২৯ টি-২০ তে জিতিয়েছেন দশটিতে।

তার নেতৃত্বেই ভারত, পাকিস্তান, আফ্রিকার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। বদলে দিয়েছেন ছোট দলের তকমা।

ক্রিকেটের বড় আসরগুলোতেও পেয়েছেন সাফল্য।

২০১৫ বিশ্বকাপে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছেন। ২০১৬ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে খেলিয়েছেন।

এশিয়াকাপে দুই বার জিততে জিততে হেরে গিয়ে রানারআপ হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে প্রথমবারের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।

যার হাত ধরে এতএত অর্জন, সেই তিনিই অবসর ইস্যুতে হয়েছেন হেনস্তার শিকার।

গত মার্চে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেও খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানছেননা এখনই।

এই বয়সে এসে তরুণদের সাথে পাল্লা জাতীয় দলের জন্য বিবেচিত হবেন কি না সেটা পরের বিষয়। তবে মাঠের মাশরাফি মাঠেই থাকতে চান আরো কিছুদিন। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটকেই দিচ্ছেন গুরুত্ব।

ক্যারিয়ারের শেষপ্রান্তে এসে খেলোয়াড়ি জীবনেই জড়িয়েছেন ব্যতিক্রমী ভূমিকায়। ড্রেসিংরুম থেকে সংসদ ভবনে, মাঠের খেলোয়াড় থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা সেবক হিসেবে।

১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্মগ্রহণ করা এই কিংবদন্তী বর্তমানে নড়াইল-২ আসনের সাংসদ।

আজ জীবনের ইনিংসে ৩৮ পেরিয়ে ৩৯ এ পা রাখলেন মাশরাফি। শুভ জন্মদিন যোদ্ধা।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক