Connect with us

আন্তর্জাতিক

যার অবদান ভুলবার নয়

প্রকাশিত

তারিখ

বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম অংশ হয়ে আছেন আকরাম খান। ছবিঃ আইসিসি

বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং আকরাম খান; দুটি যেন একই সুতোয় গাথা। আকরামরা যখন ক্রিকেট খেলেন, ফুটবল তখন এদেশের এক নম্বর খেলা।

ক্রিকেটে আজকের এই অবস্থানে উঠে আসার পেছনে যাদের অবদান, আকরাম খান তাদের অন্যতম একজন।

গাছে ফুল ফুটে, ফল ধরে, ডালপালা মেলে ছায়া দেয়, বাতাস দেয়… তবে গাছের শেকড়টাই যদি না থাকে তবে এতোকিছু কি আর হবে!

আকরাম খানদের তাই এদেশের ক্রিকেটের শেকড় বলা যায়। তুমুল জনপ্রিয়তার ফুটবলের যুগে যারা ক্রিকেটটাকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন জীবনের সাথে।

এখনকার সময়ের মতো কাড়ি কাড়ি টাকা ছিলোনা, মিলতোনা গাড়ী বাড়ী কিংবা ফ্ল্যাটের চাবি। তবু ক্রিকেটের প্রতি ছিলো নিখাদ ভালোবাসা।

ভাবুনতো, আকরাম খান যদি ১৯৯৭ সালের ৪ এপ্রিল আইসিসি ট্রফিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে ৬৮ রানের ইনিংসটি না খেলতেন, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কী হতো?

৬৮ রান, এই সময়ে এ আর এমন কী… তাও আবার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে! কিন্তু সেই যুগে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম কিংবা তামিম ইকবালরা ছিলেননা। ছিলোনা টি-টোয়েন্টি সূলভ ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিং।

এই ম্যাচটি হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় হতো বাংলাদেশ। সাথে শেষ হয়ে যেতো নিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপে টিকেট পাওয়ার আশা।

তবে ড্র হলে অন্তত আশা জিইয়ে থাকতো। সে আশাতেই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনারত ছিলো রেডিওতে ধারাভাষ্য শোনা ক্রিকেটপাগলরা।

১৭২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলার পরও কি আর ম্যাচ জেতার আশা করা যায়! বিশ ওভার পূর্ণ করতে পারলে বৃষ্টি আইনে ম্যাচ জিতে যাবে হল্যান্ড।

তাই তড়িঘড়ি করে ওভার শেষ করতে চায় নেদারল্যান্ডসের বোলাররা। কিন্তু দলকে বাঁচাতে একটুখানি সময়ক্ষেপণের চেষ্টা করেন আকরাম-নান্নুরা।

এই গ্লাভসের জন্য ডাকেন তো এই ব্যাট পরিবর্তনের জন্য। একটু পরপর পানির তৃষ্ণা মেটানোর ডাক দেখে মনে হয় যেনো আরবের মরুভূমিতে এক তৃষ্ণার্থ যোদ্ধার প্রাণ যায়!

এমন আকুতিভরা আকাঙ্ক্ষা যেনো বুঝতে পারলো বৃষ্টি। নেমেও পড়লো ক্রিকেট মাঠে, হাঁফ ছেড়ে বাঁচে গোটা দল।

একটুপর ফের বন্ধ হলো বৃষ্টি। লক্ষ্য দাড়ালো ৩৩ ওভারে ১৪১। কিন্তু মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর বিদায়ে সে আশা অনেকটা ফিকে হয়ে যায় বাংলাদেশের।

তবু সেদিন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন অধিনায়ক আকরাম। একপ্রান্তে আগলে রেখে বুঝেশুনে খেলতে থাকেন। অপরাজিত থেকে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন।

৬৮ রানের বীরত্বপূর্ণ এই ইনিংসের সৌজন্যেই সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। বাকিটা ইতিহাস। সেমিফাইনালে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের টিকেট পায় টাইগাররা।

টুর্নামেন্ট শেষে আইসিসি ট্রফি জেতা দলের নাম বাংলাদেশ, আর সেদিন গর্বভরে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা অধিনায়কের নাম আকরাম খান।

শুধু কী তাই? ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়েও আকরামের ব্যাটিংয়ের ভূমিকা ছিলো অনস্বীকার্য।

তখনও ক্রিকেটে শিশু বাংলাদেশ। পরাক্রমশালী পাকিস্তান দলে ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম উল হক, সেলিম মালিকদের মতো ক্রিকেটার।

সেই ম্যাচে খালেদ মাহমুদ সুজন অলরাউন্ড নৈপুন্য দেখিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ জিতলেও ওয়ান ডাউনে নেমে আকরাম খানের ৪২ রানের ইনিংসটা কী ভোলার মতো!

বাংলাদেশের হয়ে ৮টি টেস্ট ও ৪৪টি ওয়ানডে খেলেছেন আকরাম খান। দলকে দিয়েছেন নেতৃত্ব।

২০০৭ সালে ক্রিকেটার হিসেবে অবসর নিলেও ক্রিকেট থেকে অবসরে যাননি তিনি। যুক্ত হন নির্বাচক প্যানেলে। এরপর দায়িত্ব পান প্রধান নির্বাচকেরও।

বর্তমানে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খ্যাতিমান এই ক্রিকেটার।

গতকাল ১ নভেম্বর জীবনের ইনিংসে ৫২ বছর পূর্ণ করলেন তিনি। বাকি জীবনের জন্য রইলো অনেক শুভকামনা।

 

এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে তার নাম। কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন আকরাম খান।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক