Connect with us

আন্তর্জাতিক

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়!

প্রকাশিত

তারিখ

২৫ বলে ৪৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতান মুশফিক। ছবিঃ ক্রিকইনফো

২০১২ সালের আজকের এইদিনে এশিয়াকাপে শচীন টেন্ডুলকারের শততম সেঞ্চুরির পরও ভারতকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

এই দিনটির কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের ভোলার নয়। এশিয়া কাপে ভারতের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় এখনো চোখের সামনে স্পষ্ট ভাসে।

মিরপুরে দিবারাত্রির ম্যাচে টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম।

আশানুরূপ ভালো বোলিং করতে না পারলেও ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে তিনশোর ভিতরে থামিয়ে দেয়াটাও কম অর্জন নয়।

দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত শততম সেঞ্চুরির অপেক্ষায় থাকা শচীন টেন্ডুলকারের ব্যাট যেনো এই ম্যাচটিকেই বেছে নিয়েছিলেন।

সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০তম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন টেন্ডুলকার।

মাশরাফির বলে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে খেললেন ১৪৭ বলে ১১৪ রানের ইনিংস।

পাশাপাশি বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়নার ফিফটি ও শেষদিকে এমএস ধোনির ১১ বলে ২১ রানের ঝড়ো ইনিংসে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৮৯ থামে ভারতের ইনিংস।

প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একমাত্র মাশরাফি নিয়েছিলেন দুটি উইকেট। রাজ্জাক ও শফিউলের ঝুলিতে পড়ে ১টি করে।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৫ রানের মাথায় ওপেনার নাজিমউদ্দীনের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

আরেক অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল ও তিনে ব্যাট করতে নামা জহুরুল ইসলাম গড়ে তোলেন দারুন  এক জুটি।

দুজনের সাবলীল ব্যাটিংয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১১৩ রান। ফিফটি তুলে নেন জহুরুল ও তামিম।

দলীয় ১২৮ রানে ব্যক্তিগত ৫৩ রান করে জহুরুল বিদায় নিলেও চারে নেমে দারুণ খেলেন নাসির হোসেন। তবে তামিমের সাথে তার জুটি বেশিদূর এগোতে দেননি প্রবীণ কুমার।

৯৯ বলে ৭০ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন তামিম। তবে সেদিন টাইগারদের ব্যাটিং ছিলো ধারাবাহিক।

৫ম উইকেটে ব্যাট করতে নেমে চোখধাঁধানো ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় সাকিব আল হাসানের ঝড়ো ৩১ বলে ৪৯ রানের ইনিংসে বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ।

তবে রবিচন্দ্রণ অশ্বিনের বলে বিতর্কিত স্ট্যাম্পিংয়ে বিদায় নিলে ভেঙ্গে যায় নাসিরের সাথে ৬৮ রানের জুটি।

জয়ের স্বপ্ন দেখতে বিভোর থাকা কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রার্থনা ছিলো একটাই- যেকোনো মূল্যে জয়!

শেষের গল্পটা বোধহয় মুশফিকুর রহিমের ব্যাটেই লেখা ছিলো।

শেষ ৩ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিলো ৩৩ রান।

ইরফান পাঠানের করা ৪৮ তম ওভারে মুশফিকের ২ অসাধারণ ছক্কায় সেই ওভারেই আসে ১৭ রান!

পরের ওভারে ব্যাক্তিগত ৫৪ রান করা নাসির হোসেন আউট হলেও রান আসে ১৪!

শেষ ওভারে ২ রানের প্রয়োজন হলে প্রথম বলে এক রান নেন মুশফিক। দ্বিতীয় বলে অফ সাইডের বাইরের বল মিড অফে সীমানা ছাড়া করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

আনন্দে মেতে ওঠে মিরপুর স্টেডিয়ামসহ গোটা দেশ। বিশ্ব নন্দিত ক্রিকেট তারকারা অভিনন্দনে ভাসান টাইগারদের।

নতুন করে নিজেদের শক্তিমত্তা জাহির করে টাইগাররা জানিয়ে দেয়- আমরা হারার আগে হারিনা।

একই সাথে বিফলে যায় শচীন টেন্ডুলকারের ঐতিহাসিক শততম সেঞ্চুরির রেকর্ড।

৪ বল হাতে রেখে ভারতের বিপক্ষে ৫ উইকেটের এই বিজয় বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে অনন্য এক উচ্চতায়।

যার ধারাবাহিকতায় এখন বিশ্বের যেকোনো দেশকে হারিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে টাইগাররা যেনো একটু বেশীই ক্ষুধার্ত।

সম্প্রতি দেশের বাইরেও দারুণ করছে বাংলাদেশ। এই দারুণ খেলার ফলটা যেনো ম্যাচ জেতানোতেই সমাপ্তি হয়।

২৫ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ভারতঃ ২৮৯/৫ (৫০ ওভার), শচীন ১১৪, কোহলি ৬৬, রায়না ৫১, ধোনি ২১*

মাশরাফি ৪৪/২, শফিউল ২৪/১, রাজ্জাক ৪১/১

বাংলাদেশঃ ২৯৩/৫ (৪৮.২ ওভার), তামিম ৭০, জহুরুল ৫৩, সাকিব ৪৯, নাসির ৫৪, মুশফিক ৪৬*

প্রবীণ ৫৬/৩, জাদেজা ৩২/১, অশ্বিন ৫৬/১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরাঃ সাকিব আল হাসান।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক