Connect with us

আন্তর্জাতিক

ব্যতিক্রমী এক তারার গল্প

প্রকাশিত

তারিখ

জীবনের ইনিংসে আজ ৩০ বছর পূর্ণ করলেন কেন উইলিয়ামসন। ছবিঃ ক্রিকইনফো

কেন উইলিয়ামসনকে পছন্দ করেন না এমন ক্রিকেট ভক্তের খোঁজ পাওয়া দুষ্কর। যতটা না বড় মাপের ক্রিকেটার হিসেবে, তারচেয়েও বেশী তার ব্যাক্তিত্বের প্রতি মানুষের মুগ্ধতা। একজন হাসিখুশী ঠান্ডা মাথার মানুষ, যার ব্যাটিংয়ের সাথে ব্যাক্তিজীবনটাও নির্দ্বিধায় অনুসরণ করা যায়।

বাদামী দাড়ি আর মুখে সারাক্ষণ লেগে থাকা মিষ্টি সতেজ হাসির সুদর্শন এই ক্রিকেটার নিউজিল্যান্ডের উপসাগর অঞ্চলের বৃহত্তম শহর তৌরাঙ্গায় একটি ক্রীড়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। যার পুরো পরিবারেরই খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ততা আছে।

তাঁর বাবা নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট খেলেছেন। মা বাস্কেটবলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বোনরাও বয়স ভিত্তিক পর্যায়ে ভলিবল খেলতেন।

বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান কে? এমন প্রশ্নের জবাবে হালের বিরাট কোহলি, স্টিভ স্মিথ ও জো রুটদের সাথে বেশ জোরেশোরেই আসে কেন উইলিয়ামসনের নাম।

হবেই বা না কেনো! ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকে আলোর দ্যুতি ছড়ানো এই ব্যাটসম্যান নিউজিল্যান্ডের প্রায় অনেক রেকর্ডই নিজের করে নিচ্ছেন।

মাত্র ২০ বছর বয়সে নিউজিল্যান্ডের ৮ম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে ৩০০০ রান ও দ্রুততম ৩০০০ ওয়ানডে রানের রেকর্ডও রয়েছে তার। যা ক্রিকেট ইতিহাসে ৫ম।

২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ২০ টি সেঞ্চুরির রেকর্ডও করেন তিনি।

ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অবসরের পর তার কাঁধে অধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দিলে চাপে নুইয়ে পড়েননি। বরং ঠান্ডা মাথায় দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়মিত একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন।

সবচেয়ে বেশী আলো কেড়েছেন ২০১৯ বিশ্বকাপে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরির পর সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রানের ফলে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে নিউজিল্যান্ড।

ফাইনালে অবিশ্বাস্যভাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার ওভারে হেরে গেলেও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হোন তিনি।

বিশ্বব্যাপী তার অধিনায়কত্বের ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সবাই।

কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার তাকে প্রতিপক্ষের চেয়ে একধাপ এগিয়ে রাখেন জানিয়ে বলেছিলেন,

‘সে সঠিকভাবে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এজন্য বলাই যায় সে প্রতিপক্ষের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। এ বিষয়ে আমি তাকে সর্বোচ্চ নাম্বার দেব।’

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৮০ টেস্ট, ১৫১ ওয়ানডে এবং ৬০ টি টি-২০ ম্যাচ খেলে রান করেছেন যথাক্রমে ৬৪৭৬, ৬১৭৩ ও ১৬৬৫ রান।

সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৮২ টি ফিফটি ও ৩৪ টি সেঞ্চুরিতে করেছেন সর্বমোট ১৪,৩১৪ রান।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে ঈর্ষণীয় এভারেজ ৫০.৯৯ ও ৪৭.৪৮।

টি-২০ তেও যুগের চাহিদা মেটানো ১২৫.১৮ স্ট্রাইকরেট আর ৩২.৪৬ এভারেজ প্রমাণ করে সব ফরম্যাটেই কেন উইলিয়ামসন নিউজিল্যান্ডের অপরিহার্য অংশ।

পেস-স্পিন যেকোনো বোলিংয়ে সমানভাবে মোকাবেলায় পারদর্শী। সাবলীল সব শটে চোখের তৃপ্তি মেটানো জাদুকরী ব্যাটিংয়ে মাতিয়ে রাখেন কোটি ক্রিকেট ভক্তকে।

এতো এতো অর্জন যার, কখনো খুব একটা উদযাপন করতে দেখা যায়নি তাকে।

কোনো মাইলফলক স্পর্শ করলে হেলমেট খুলে স্মিথ হাসিতে ব্যাট দেখানো পর্যন্তই তার উদযাপন সীমাবদ্ধ। বড়জোড় সে হাসিটা মৃদু থেকে একটু চওড়া হয় কেবল!

তারকাখ্যাতির মোহে না পড়ে স্রোতের বিপরীতে নিজেকে আগলে রাখা ব্যাতিক্রমি এই তারকা ক্রিকেটার গত ৮ আগস্ট  জীবনের ইনিংসে ৩০ বছর পূর্ণ করলেন।

শুভ কামনা  কেন উইলিয়ামসন।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক