Connect with us

আন্তর্জাতিক

ফিরে দেখা এশিয়া কাপ ফাইনাল-২০১৮

প্রকাশিত

তারিখ

১১৭ বলে ১২১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন লিটন দাস। ছবিঃ আইসিসি

২০১৮ সালের আজকের এই দিনে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়া কাপ-২০১৮ এর ফাইনাল। তাতে মুখোমুখি হয়েছিলো এশিয়ার দুই পরাশক্তি বাংলাদেশ ও ভারত। শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিলো বাংলাদেশের।

টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের দলপতি রোহিত শর্মা।

পুরো টুর্নামেন্টে ওপেনিংয়ে ব্যর্থতায় ভোগা বাংলাদেশের চমক হয়ে লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংসের সূচনা করতে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

মাশরাফির সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করেননি তিনি। ভারতীয় বোলারদের হতাশ করে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১২৫ বলে ১২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন লিটন-মিরাজ।

৫৯ বলে ৩২ রান করা মিরাজ সাজঘরে ফিরলে ভেঙ্গে যায় এ জুটি। এরপর বলার মতো আর কোনো জুটিই গড়তে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রথম ২০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১৬ রান করা বাংলাদেশ পরের ২০ ওভারে তুলে মাত্র ৬২ রান, হারিয়ে বসে ৫ উইকেট!

১৫১ রানের মধ্যে দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করার আগেই সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিথুন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ!

সেখান থেকে আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি টাইগাররা।

যদিও দলের হয়ে একা লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস। কেদার যাদবের ফুলটসে ১ রান নিয়ে ৮৫ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওডিআই শতক তুলে নেন ডানহাতি এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

এশিয়া কাপ ফাইনালে ৫ম ব্যাটসম্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করার মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

এরপর কিছুটা সঙ্গ দিয়েছিলেন সাতে নামা সৌম্য সরকার। লিটন দাসের সাথে গড়েন ৫২ বলে ৩৭ রানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ।

১৮৮ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে থার্ড আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ধোনির স্টাম্পিংয়ের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

তার আগে ১২ চার ও ২ ছয়ে খেলেন চোখ ধাঁধাঁনো যোগানো ১১৭ বলে ১২১ রানের এক স্মরণীয় ইনিংস।

শেষদিকে সৌম্য সরকারের ৪৫ বলে ৩৩ রানের সুবাধে ৪৮.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

লিটন, মিরাজ ও সৌম্য ছাড়া বাকি ৮ ব্যাটসম্যানের কেউই দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেননি!

ভারতের পক্ষে কুলদীপ যাদব ৩টি, কেদার যাদব ২টি এবং বুমরাহ ও চাহাল নেন ১টি করে উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮৩ রানে শিখর ধাওয়ান, আম্বাতি রায়ডু ও রোহিত শর্মার উইকেট হারায় ভারত।

যদিও এমএস ধোনি ও দিনেশ কার্তিকের ফিফটি পার্টনারশিপে সে ধাক্কা কাটিয়ে উঠে তারা।

এরপর ১৩৭ রানে কার্তিককে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশ শিবিরে উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ১৬০ রানে ডেঞ্জারম্যান মহেন্দ্র সিং ধোনিকে মুশফিকের গ্লাভসবন্দী করে সাজঘরে পাঠান তিনি।

তবে এর পরের গল্পটা হাতাশার।

রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া কেদার যাদবের জায়গায় ব্যাট করতে আসা ভুবেনশ্বর কুমারকে সাথে নিয়ে ৪৬ বলে ৪৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন রবীন্দ্র জাদেজা।

শেষ তিন ওভারে ভারতের জিততে প্রয়োজন ছিলো ১৩ রানের। কিন্তু রুবেল-মুস্তাফিজের একের পর এক ডট বলে সে কাজটা সহজে করতে পারেনি ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।

৪৮ তম ওভারে মাত্র ৪ রান দিয়ে জাদেজাকে আউট করেন রুবেল।

মুস্তাফিজের করা ১৯ তম ওভারের প্রথম বলেই ভুবেনশ্বরকে উড়ন্ত ক্যাচে তালুবন্দী করেন মুশফিক। সে ওভারে মাত্র ৩ রান আসলে ম্যাচ গড়ায় শেষ ওভারে।

সমীকরণ যখন ৬ বলে ৬ রান, শেষ ওভারে কার হাতে বল তুলে দিবেন সে চিন্তায় তখন টাইগার কাপ্তান মাশরাফি বিন মোর্ত্তাজার কপালে ভাঁজ।

প্রথমে সৌম্য সরকারকে ডেকে আনলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদেই ভরসা খোজেন অধিনায়ক।

ঘরোয়া ক্রিকেটে শেষ ওভারে ম্যাজিকাল বোলিংয়ে ম্যাচ জিতিয়েছেন অনেকবার। বিশ্বস্ত মাহমুদউল্লাহ এই ম্যাচেও চালিয়েছেন সেই চেষ্টা।

তবে কোনো বাউন্ডারি আদায় করার সুযোগ না দিলেও ৫ বলে দেন ৫ রান। শেষ বলে প্যাডে লেগে ফাইন লেগের দিকে ছোটা বলটিতেই হারিয়ে যায় স্বপ্নের এশিয়া কাপ!

৩ উইকেটের জয় নিয়ে সপ্তমবারের মতো এশিয়া কাপ জিতে মাঠ ছাড়ে ভারত।

বাংলাদেশের হয়ে রুবেল ও মুস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নেন। এছাড়া ১ টি করে নেনে নাজমুল অপু, মাশরাফি ও মাহমুদউল্লাহ।

বাংলাদেশ হারলেও ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান লিটন কুমার দাস। টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতেন শিখর ধাওয়ান।

ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতায় অল্প রানের পুঁজি নিয়েও ভারতের মতো শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে শেষ বল পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে হারার মধ্যে শান্তনা খোজা যায়।

কিন্তু বারবার কাছে গিয়েও জিততে না পারার বেদনা আর আক্ষেপ সে কি আর ভোলা যায়!

কতবার কাছে গিয়েও উঁচিয়ে ধরা হলোনা, ছোঁয়া হলোনা, দেওয়া হলোনা তৃপ্তির চুম্বন।

আহা এশিয়া কাপ! ধরা দিয়েও দেয়না ধরা

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশঃ ২২২/১০ (৪৮.৩ ওভার), লিটন ১২১, মিরাজ ৩২, সৌম্য ৩৩

কুলদীপ ৪৫/৩, কেদার ৪১/২, চাহাল ৩১/১, বুমরাহ ৩৯/১

ভারতঃ ২২৩/৭ (৫০ ওভার), রোহিত ৪৮, কার্তিক ৩৭, ধোনি ৩৬, কেদার ২৩*

রুবেল ২৬/২, মুস্তাফিজ ৩৮/২, মাহমুদউল্লাহ ৩৩/১, মাশরাফি ৩৫/১, নাজমুল ৫৬/১

ফলাফলঃ ভারত ৩ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ লিটন দাস (বাংলাদেশ)।

ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্টঃ শিখর ধাওয়ান (ভারত)।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক