Connect with us

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)

নাটকীয় ম্যাচে সুপার ওভারে জিতল আরসিবি

প্রকাশিত

তারিখ

সুপার ওভারে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন ম্যাচসেরা ডি ভিলিয়ার্স ও অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ছবিঃ ইন্ডিয়া টাইমস।

ব্যাঙ্গালুরুর দেয়া ২০২ রানের কঠিন টার্গেটে হিমশিম খেয়ে মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যানরা ১৬ ওভারে রান তুলেছিলো মাত্র ১২২।

অথচ এই ম্যাচটিই ঈশান কিষান ও কাইরন পোলার্ডের সৌজন্যে অবিশ্বাস্যভাবে গড়ালো সুপার ওভারে। যদিও শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে শেষের হাসি হেসেছে বিরাট কোহলির দল।

এমন উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ঠাসা ছিলো মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর সর্বশেষ ম্যাচটি।

২০২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩৯ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে মুম্বাই। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলতে প্রায় একা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তরুণ ব্যাটসম্যান ঈশান কিষান।

হার্দিক পান্ডিয়ার সাথে ৩৯ রানের জুটি গড়ার পর কাইরন পোলার্ডের সাথে যোগ করেন ৫৮ বলে ১১৯ রান!

প্রথম ২৪ বলে ২৫ রান করা কিষান ৩৯ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

১৬ ওভার শেষে মুম্বাইয়ের সংগ্রহ দাড়ায় ৪ উইকেটে ১২২। ওভারপ্রতি ২০ রান করে জিততে প্রয়োজন ২৪ বলে ৮০ রান!

প্রথম ১০ বলে ১১ রান করা কাইরন পোলার্ড ২০ বলেই তুলে নেন ফিফটি! যুজবেন্দ্র চাহাল ও অ্যাডাম জাম্পার করা ১৭ ও ১৮ তম ওভারের ১২ বলে তুলেন ৩৯ রান।

শেষ ১২ বলে ৩১ রানের দরকার হলে নবদীপ সাইনির করা ১৯ তম ওভারে আসে ১২ রান। শেষ ওভারে ইসুরু উদানার হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক কোহলি।

প্রথম দুই বলে ২ রান আসলেও ক্লান্ত শরীরে পরের দুই বলে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে দাড়িয়ে থাকেন ঈশান কিষান।

যদিও নিজের সেঞ্চুরির চাইতে দলকে জেতানোই বড়, সে চেষ্টায় ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ৫ম বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন তিনি।

১ রানের জন্য আইপিএলের প্রথম সেঞ্চুরি ও দলকে জিতিয়ে আসতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই তরুণ তুর্কী।

আউট হবার আগে ৫৮ বলে ২ চার ও ৯ ছয়ে ৯৯ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষ বলে দরকার ৫ রান। স্ট্রাইকে থাকা বিগম্যান পোলার্ডের পুল শটে বলটি মিড উইকেট দিয়ে সীমানা পার করলে ম্যাচ টাই হয়।

নিয়ম অনুসারে বিজয়ী নির্ধারণে তা গড়ায় সুপার ওভারে। নবদীপ সাইনির করা সুপার ওভারে আসে মাত্র ৭ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নামেন ডি ভিলিয়ার্স ও বিরাট কোহলি। তাদেরকে তা সহজে করতে দেননি জাসপ্রীত বুমরাহ।

শেষ বল পর্যন্ত মুম্বাইকে জয়ের আশা দেখিয়েছেন এই বিস্ময়। যদিও শেষ বলে করা লো ফুলটসে ফ্লিক করে বাউন্ডারি হাঁকান বিরাট কোহলি।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ শেষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দেবদত্ত পাডিকাল ও অ্যারন ফিঞ্চের উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ বলে ৮১ রান তুলে চ্যালেঞ্জার্স।

দুই ওপেনারই ব্যাক্তিগত ফিফটির দেখা পান। শেষদিকে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও শিবাম দুবের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান সংগ্রহ করে আরসিবি।

ডি ভিলিয়ার্স মাত্র ২৪ বলে ৫০ রান ও শিবাম দুবে ১০ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

গুরুত্বপূর্ণ ঝড়ো ফিফটির জন্য ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুঃ ২০১/৩ (২০ ওভার), পাডিকাল ৫৪, ফিঞ্চ ৫২, ভিলিয়ার্স ৫৫*, দুবে ২৭*

বোল্ট ৩৪/২, চাহার ৩১/১

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সঃ ২০১/৫ (২০ ওভার), কিষান ৯৯, পান্ডিয়া ১৫, পোলার্ড ৬০

উদানা ৪৫/২, ওয়াশিংটন ১২/১, চাহাল ৪৮/১, জাম্পা ৫৩/১

ফলাফলঃ ম্যাচ টাই (সুপার ওভারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু জয়ী)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ এবি ডি ভিলিয়ার্স (আরসিবি)।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক