Connect with us

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)

তীরে নিয়ে তরী ডোবালেন ধোনি!

প্রকাশিত

তারিখ

৩৬ বলে ৪৭ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলেও ম্যাচ জেতাতে পারেননি ধোনি। ছবিঃ ডেইলিমেইল

শেষ চার ওভারে জেতার জন্য চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ৮১ রান। উইকেটে সেট দুই ব্যাটসম্যান জাদেজা ও ধোনি। ক্যাচ ও ফিল্ডিং মিসের মহড়ায় ম্যাচ হারার সকল চেষ্টাই করেছে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ফিল্ডাররা। তবু কাছে যেয়েও ৭ রানে হেরেছে এমএস ধোনির দল।

১৬৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮.২ ওভারে মাত্র ৪২ রান। একে একে সাজঘরে ফিরে গেছেন শেন ওয়াটসন, আম্বাতি রায়ডু, ফাফ ডু প্লেসিস ও কেদার যাদব।

সেখান থেকে মাঝের ওভারগুলোতে ডট বলের পসরা সাজিয়ে ধীরগতিতে ব্যাট করতে থাকেন রবীন্দ্র জাদেজা ও মহেন্দ্র সিং ধোনি। শেষে গিয়ে যার খেসারত দিতে হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসকে।

১৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৮৭ রান, হাতে আছে ছয় উইকেট। ২৫ বলে ২৩ রান নিয়ে জাদেজা ও ২৭ বলে ২৪ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন ধোনি।

২৪ বলে ৮১ রানের প্রয়োজন! এই দুজনেই তবু জয়ের স্বপ্ন দেখছিলো চেন্নাই। সে চেষ্টায় হাত খোলে মারতে শুরু করেছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা।

১৭ তম ওভারে ভুবেনশ্বর কুমারের প্রথম তিন বলে টানা তিন বাউন্ডারি সহ এই ওভারে একাই তোলেন ১৫ রান।

১৮ তম ওভারে টি নটরাজনের প্রথম তিন বলে আসে ১০ রান।

ছক্কা হাঁকিয়ে ৩৫ বলে তুলে নেন আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। যদিও চতুর্থ বলেই ডীপ স্কয়ার লেগে আব্দুল সামাদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপর উইকেটে এসেই প্রথম বলে স্যাম কারেন বিশাল ছক্কা হাঁকালে এই ওভারে আসে ১৯ রান।

তাতে জয়ের সমীকরণ অনেকটাই সহজ হয়ে আসে সিএসকের জন্য। ২ ওভারে প্রয়োজন হয় ৪৪ রানের।

বিশেষ করে ধোনির মতো বিশ্ববিখ্যাত ফিনিশার যখন ব্যাটিংয়ে, তখন জয়ের আশা করাটাই বেশি স্বাভাবিক।

১৯ তম ওভারে ১ বল করার পর ভুবেনশ্বর ইনজুরিতে পড়লে বাকি ৫ বল শেষ করতে বোলিংয়ে আসেন খলিল আহমেদ। বাউন্ডারি, ছক্কা মিলে এই ওভারে আসে আরো ১৬ রান।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ৬ বলে ২৮… অনভিজ্ঞ তরুণ লেগ স্পিনার আব্দুল সামাদের হাতে বল তুলে দিলেন সানরাইজার্স ক্যাপ্টেন ডেভিড ওয়ার্নার।

কাজটা যেকোনো বোলারের বিপক্ষেই বেশ কঠিন। তবে প্রথম বলে ওয়াইড বাউন্ডারিতে আসে ৫ রান! সমীকরণ কমে আসে ৬ বলে ২৩!

তিন বলে আসে মাত্র ৭, শেষের তিন বলে ১৬ রানের দরকার হলে ৪র্থ ও ৫ম বলে আসে ২ রান! শেষ বলে স্যাম কারেন ছক্কা হাঁকালেও ১৫৭ রানেই শেষ হয় চেন্নাইয়ের ইনিংস।

৭ রানের জয় পায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

৩৬ বলে ৪৭ রান নিয়ে ধোনি ও ৫ বলে ১৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন স্যাম কারেন।

তবু তীরে নিয়ে তরী ডোবানোতে ধোনির সমালোচনা হচ্ছে বেশ। আনকোরা বোলারের বিপক্ষেই যে হাসফাস করতে হলো তাকে।

যদিও পুরো ইনিংসজুড়েই অস্বস্তিতে ভুগতে দেখা গেছে তাকে। খেলার মাঝখানে গিলেছেন ট্যাবলেটও।

হায়দ্রাবাদের পক্ষে নটরাজন ২টি, ভুবেনশ্বর ও সামাদ নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

৬৯ রানে ৪ উইকেট হারালেও দুই তরুণ প্রিয়ান গার্গ ও অভিষেক শর্মার ৪৩ বলে ৭৭ রানের পার্টনারশিপে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রান করেছিল তারা।

আইপিএলের প্রথম ফিফটি তুলে নেন গার্গ। মাত্র ২৬ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৫১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন তিনি।

এছাড়া অভিষেক শর্মা করেন ২৪ বলে ৩১ রান।

চেন্নাইয়ের পক্ষে দীপক চাহার ২টি, শার্দুল ঠাকুর ও পীযুষ চাওলা নেন ১টি করে উইকেট।

ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতেন হায়দ্রাবাদের প্রিয়াম গার্গ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদঃ ১৬৪/৫ (২০ ওভার), ওয়ার্নার ২৮, মনীশ ২৯, গার্গ ৫১* অভিষেক ৩১

চাহার ৩১/২, চাওলা ২০/১, ঠাকুর ৩২/১

চেন্নাই সুপার কিংসঃ ১৫৭/৫ (২০ ওভার), প্লেসিস ২২, ধোনি ৪৭*, জাদেজা ৫০, কারেন ১৫

নটরাজন ৪৩/২, ভুবেনশ্বর ২০/১, সামাদ ৪১/১

ফলাফলঃ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ৭ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচঃ প্রিয়াম গার্গ (সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ)

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক