Connect with us

অস্ট্রেলিয়া

গ্লেন ম্যাকগ্রাঃ এক বিস্ময়ের নাম!

প্রকাশিত

তারিখ

২০০৯ সালের পর প্রতি বছরই আয়োজন হয় গোলাপি টেস্ট। ছবিঃ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

ক্রিকেট বিশ্বে গ্ল্যান ম্যাকগ্রা এক নামেই পরিচিত। অস্ট্রেলিয়ান এই কিংবদন্তির জীবনে আছে নান চড়াই-উতরাইয়ের গল্প। আর সবকিছু ছাপিয়ে তিনি ক্রিকেট বিশ্বে ভক্তদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা দখল করে আছেন।

একজন পেস বোলার হওয়ার আদর্শ উচ্চতা ছিলো তার। কিন্তু পেসারদের সহজাত আক্রমণাত্মক শরীরি ভাষা কিংবা গতির ঝলক ছিলোনা।

তবু লম্বা স্পেলে নিখুঁত লাইন-লেন্থ ঠিক রেখে একই জায়গায় টানা বল ফেলে দুনিয়ার বাঘা-বাঘা ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুাবানী খাইয়েছেন।

হয়েছেন ইতিহাসের সর্বকালের সেরা পেস বোলারদের একজন।

অথচ লিকলিকে গড়নের এই বোলারই যে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরাদের একজন হবেন সেটা ভাবেননি স্বদেশী কিংবদন্তি অনেকেই।

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর চোখে প্রথম দর্শনে গ্ল্যান ম্যাকগ্রাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একবার বলেছিলেন,

‘ওকে প্রথম যেদিন দেখি, সেদিন এসেছিল ওর থেকে কয়েক সাইজ বড় ট্রাউজারস চাপিয়ে, জুতোও ছিল অস্বাভাবিক বড়। মনে হচ্ছিল, ও হয়ত ভুলে অন্য কারো পোশাক পড়ে এসেছে। অদ্ভুত লাগছিলো দেখতে!’

এই সাদামাটা মানুষটি চিরাচরিতভাবে অস্ট্রেলিয়ানরা যেমন মাঠে জেতার জন্য সবরকম আক্রমণাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে, ঠিক তেমনটাই ছিলেন।

কিন্তু ক্রিকেট মাঠের বাইরে ছিলেন এক নিপাট ভদ্র‍লোক।

বলকে দু’দিকেই ঘুরাতে পারতেন। টানা স্টাম্প বরাবর বল ছুড়তে থাকতেন। ব্যাটসম্যানদের সকল কৌশল পরাস্থ করে ভেঙ্গে ফেলতেন প্রতিরোধ।

উচ্চতার জন্য বাউন্সও পেতেন বেশ।

সাধারণ ভঙ্গিতে বোলিং প্রান্ত থেকে দৌড় শুরু করতেন। জানতেন নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও। আর তাই নিজের কাজটাই ঠিকঠাক আদায়ে সচেষ্ট থাকতেন তিনি।

ম্যাকগ্রা বলেন, ‘আমি জানি, আমার সীমাবদ্ধতা কোথায়। আমার কাছে শোয়েব কিংবা ব্রেট লি’র মতো গতি নেই, ওয়াসিমের মতো সুইং নেই। আমি শুধু একটা কাজের চেষ্টাই করি, ঠিক জায়গায় বল ফেলা।’

‘আমি জানি, যদি ১০০ বারের মধ্যে ৯০ বার ঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারি, তাহলে ব্যাটসম্যান ভুল করবেই।’ যোগ করেন তিনি।

আর এভাবেই ব্যাটসম্যানদের ভুল করিয়ে দিনে দিনে ম্যাকগ্রা হয়ে ওঠেন এক আতঙ্কের নাম।

অভিষেকের পর ২০০৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি।

অবিশ্বাস্যভাবে এই ৪ বারই ফাইনালে উঠেছিলো অজিরা। এরমধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ৩ বার, রানার্সআপ ১ বার!

বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলেছেন ৩৯ টি। তাতে মাত্র ১৮.১৯ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৭১টি।

ফাস্ট বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক উইকেট ম্যাকগ্রার। সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৯৪৯টি উইকেট আছে তার ঝুলিতে।

তবে সবচেয়ে বেশী সফলতা তার টেস্ট ক্রিকেটে। অবসর নেওয়ার সময়টাতে পেসার হিসেবে সবচেয়ে বেশি উইকেটও তার ছিল।

যদিও পরবর্তীতে সেই রেকর্ড ভেঙ্গে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছেন ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পেস বোলার হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিকও ম্যাকগ্রা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১২৪ টেস্টে মাত্র ২.৪৯ ইকনোমিতে ৫৬৩টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন ২৮ বার, ৫ উইকেট ২৯ বার এবং ১০ উইকেট ৩ বার।

আড়াইশ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে উইকেট নিয়েছেন ৩৮১ টি। ইকনোমি মাত্র ৩.৮৮! ৪ উইকেট পেয়েছেন ৯ বার, ৫ উইকেট ৭ বার।

টি-টোয়েন্টি অবশ্য খেলা হয়েছে মাত্র ২টি। তাতেও অবশ্য ৫টি উইকেট আছে।

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ২০০৮ সালে ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন ম্যাকগ্রা। এর কিছুদিন পর তার কাছ থেকে বিদায় নেন তার স্ত্রী জেন স্টিল।

দীর্ঘ এক দশক ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে ২০০৮ সালে ব্রেস্ট ক্যান্সারে মারা যান তার স্ত্রী জেন স্টিল।

এরপর থেকেই ব্যস্ত আছেন প্রয়াত স্ত্রীর স্মৃতিতে জড়ানো জ্যান ম্যাকগ্রা ফাউন্ডেশন নিয়ে।

২০০৯ সাল থেকেই প্রতি বছর ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে হয়ে আসছে গোলাপি টেস্ট।

ক্রিকেট মাঠের কিংবদন্তির এই ফাউন্ডেশন এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত।

আজ গ্লেন ম্যাকগ্রার ৫১ তম জন্মদিন। ১৯৭০ সালের আজকের এইদিনে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে জন্ম গ্রহণ করেন এই কিংবদন্তী পেস বোলার।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক