Connect with us

এডিটরিয়াল

অপি এবং একরাশ আক্ষেপ

প্রকাশিত

তারিখ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান মেহরাব হোসেন অপি। ছবিঃ আইসিসি

মেহরাব হোসেন অপি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অবিছেদ্দ অংশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সেঞ্চুরি এবং বিশ্বকাপে প্রথম ফিফটি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ২৫ শে মার্চ একদিনের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা ১০১ রানের ইনিংসটি তাই এদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের ‘প্রথম’ সেঞ্চুরি হিসেবে অমর হয়ে আছে।

১৯৯৮ সালের ১৪ই মে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে ডানহাতি স্টাইলিশ এই ব্যাটসম্যানের।

এরপর একই দলের বিপক্ষে ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর টেস্ট ক্রিকেটেও অভিষেক ঘটে তার।

কাকতালীয়ভাবে নিজের চাচা আজহার হোসেন শান্টু ১৯৯০ সালের অস্ট্রাল-এশিয়া কাপে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ফিফটি করার রেকর্ড গড়েন৷

চাচার এই ইনিংস থেকেই অনুপ্রেরণা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন ড্যাশিং এই ব্যাটসম্যান।

জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ‘ডয়চে ভেলে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অপি স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন,‘আমার অনুপ্রেরণা চাচার ফিফটি থেকেই পাওয়া৷ তখন ডিশ এন্টিনার যুগ ছিল না৷ টেলিভিশন এন্টেনায় হাড়ি-পাতিল লাগিয়ে দূরদর্শনে খেলা দেখতাম৷ এখনও চাচার হাফ সেঞ্চুরির সে দিনটি মনে আছে৷ বাবার কোলে বসে দূরদর্শনে খেলাটি দেখছিলাম৷’

চাচা ফিফটি করে আউট হবার পর স্বপ্নবাজ বাবা তাকে খুব আহলাদ করে বলেছিলেন,

‘‘বাবা, তুমি বড় হয়ে দেশের প্রথম সেঞ্চুরি করে দেখাবে৷” বাবাকে কথা দিয়েছিলাম৷ তবে সেটি ছিল ছোট্ট একটি ছেলের বাবাকে আহলাদ করে বলা৷ পরবর্তীতে তা যে বাস্তবে রূপ নেবে, কখনো ভাবিনি৷ তবে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হবার স্বপ্ন দেখছিলাম তখন থেকেই৷’

২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়ে ২১ বছর বয়সেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েও মাত্র ২৫ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার!

বিস্ময়কর প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেটে আসা মেহরাব হোসাইন অপি তাই প্রতিভার অপচয় করেও বিস্মিত করেন সবাইকে।

ক্যারিয়ার লম্বা করতে না পারার আক্ষেপ তো আছেই, সাথে অল্প বয়সে খ্যাতির বিড়ম্বনায় নিজেকে ডুব দেওয়াটাও।

ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে ৬১ ম্যাচে ২৮.৩৮ এভারেজে ১৩ ফিফটি আর ৫ সেঞ্চুরিতে ২৮৩৮ রান করেন তিনি।

৬৮ টি লিস্ট-এ ম্যাচে ৮ ফিফটি ও ২ সেঞ্চুরিতে ১৫৭৫ রান করেন তিনি। আছে অপরাজিত ১৫৫* রানের ইনিংসও।

দেশের সবচেয়ে প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানদের একজন হয়েও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৯ টেস্টে এক ফিফটিতে মাত্র ২৪১ রান এবং ১৮ ওয়ানডেতে এক সেঞ্চুরি, দুই ফিফটিতে ৪৪৯ রান প্রমাণ করে নিজের প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেননি তিনি৷

যদিও ২০০৮-০৯ মৌসুম পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যান তিনি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে ২০১১-১২ মৌসুমে ঢাকা মেট্রোপলিটনের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন তিনি।

অপির সাথে ঘটে যাওয়া ক্রিকেটের সবথেকে তিক্ত অভিজ্ঞতার একটি গল্পও আছে।

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ঘরোয়া ক্রিকেটে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে সাইফুল্লাহ জেমের করা শর্ট বলে পুল করতে গেলে আবাহনীর পক্ষে ফিল্ডিংয়ে হেলমেট ছাড়া শর্ট লেগে দাড়িয়ে থাকা ভারতীয় ব্যাটসম্যান রমন লাম্বা’র মাথায় আঘাত করে।

১০ গজ দূরে দাড়িয়ে থাকা খালেদ মাসুদ পাইলট সেই বলটি ক্যাচ ধরলে মেহরাব হোসেন অপি আউট হন, ম্যাচও জিতে আবাহনী। কিন্তু আর ফিরে আসেননি রমন লাম্বা।

এ ঘটনার তিনদিন পর হাসপাতালে লাম্বা’র করুণ মৃত্যু ঘটলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন অপি। এরপর বেশ কিছুদিন খেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি।

গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর জীবনের ইনিংসে ৪২ বছর পূর্ণ করলেন সাবেক এই ক্রিকেটার। মেহরাব হোসাইন অপির জন্য অনেক শুভ কামনা রইলো।

পুরোটা পড়ুন
কমেন্ট করুন/দেখুন

ট্রেন্ডিং টপিক